বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার হিসাব-নিকাশ শেষ হয়ে যেতে পারে আজ। ময়মনসিংহের রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে মোহামেডানকে হারালেই অনন্য এক রেকর্ড গড়বে বসুন্ধরা কিংস। শুধু দেশে নয়, সীমানা ছাড়িয়ে তাদের নাম উঠে যাবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল ইতিহাসের পাতায়। আজ জিতলে টানা পঞ্চম লিগ শিরোপা যাবে তাদের ঘরে। দেশে তো এটা রেকর্ডই, এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার ক্লাব ফুটবলের রেকর্ডও লিখতে হবে নতুন করে। শীর্ষ ফুটবলে আবির্ভাবের পর তারাই একমাত্র দল হিসেবে জিতে নেবে টানা পাঁচ লিগ শিরোপা। ভারতের শতবর্ষী ক্লাব কলকাতা মোহামেডান অবশ্য দাবি করতে পারে এ রেকর্ডের। তবে সেটা তারা গড়েছিল কলকাতা লিগে। কিংসের রেকর্ডটা হবে কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার অধীনে খেলে।
গেল সপ্তাহেই শিরোপার পথটা মসৃণ করেছে বসুন্ধরা। ঘরের মাঠ কিংস অ্যারেনায় প্রবল প্রতিপক্ষ আবাহনীকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা আরও কাছে পৌঁছে যায় তারা। ১৪ রাউন্ড শেষে তাদের সংগ্রহে আছে ৩৭ পয়েন্ট। দুইয়ে থাকা মোহামেডানের ২৮। অর্থাৎ ৯ পয়েন্টের পরিষ্কার ব্যবধান নিয়ে খেলতে নামবে অস্কার ব্রুজনের দল। চলতি লিগে একবারই হারের স্বাদ পাওয়া কিংসের সামনে আজ প্রতিশোধের সুযোগ। মোহামেডানই প্রথম পর্বে তাদের দিয়েছিল হারের তেতো স্বাদ। ৩ ফেব্রুয়ারি ঘরের মাঠে সেই হারের পর থেকে টানা আট ম্যাচ অপরাজিত থেকে বসুন্ধরা ছুটে গেছে লক্ষ্যের দিকে। প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর টানা পাঁচ ম্যাচ জিতেছে তারা।
বসুন্ধরার কাজটা সহজ করে দিয়েছে মোহামেডানই। লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডে কিংসকে হারিয়ে মোহামেডান পয়েন্টের ব্যবধান নামিয়ে এনেছিল ১-এ। তখন কিংস শীর্ষে ছিল ১৫ পয়েন্ট নিয়ে আর মোহামেডানের ১৪। এরপর থেকেই খেই হারায় মোহামেডান। কিংসকে হারানোর পর টানা তিন ম্যাচে ড্র করে তারা। প্রথম পর্ব শেষে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৫ পয়েন্ট (কিংসের ২২, মোহামেডানের ১৭)। এরপর টানা তিন ম্যাচ জিতলেও মোহামেডানের ফের ছন্দপতন ঘটের লিগের শেষ দুই ম্যাচে। তারা ড্র করে বসে পুলিশ ও চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে। অন্যদিকে ব্যবধানটা ঠিক ৯ পয়েন্টে নিয়ে গিয়েছে দুর্বার গতিতে এগোনো কিংস। আজ জিতে গেলে তো কথাই নেই। যদি ম্যাচটা ড্র হয়, তবে নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিতে শেষ তিন ম্যাচে বসুন্ধার প্রয়োজন পড়বে মাত্র ১ পয়েন্ট।
এরকম সহজ হিসাবের সামনে দাঁড়িয়ে কিংসের স্প্যানিশ কোচ আগের মতোই নিরাবেগ। তিনি এ ম্যাচটাকেও দেখছেন আর ১০টি ম্যাচের মতো, ‘আগের ম্যাচগুলো যেভাবে নিয়েছি, এ ম্যাচটাকেও আমরা ফাইনাল হিসেবে নিচ্ছি। ভিডিও সেশনে ছেলেদের প্রতিপক্ষ সম্পর্কে অনেকরকম ধারণা দিচ্ছি। মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছি কীভাবে ছেলেরা প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখবে এবং পাল্টা আক্রমণ করবে।’
লিগে দু’দলের দেখা হয়েছে মোট ১০ বার। এর মধ্যে বসুন্ধরা জিতেছে ছয়বার। ড্র হয়েছে দুই ম্যাচ। আর আবাহনী যা কখনই পারেনি, বসুন্ধরাকে দুবারের হারের স্বাদ দিয়ে সেটা করে দেখিয়েছে মোহামেডান।