কেমন কাটছে গাজার মায়েদের জীবন

বিশ্বের অনেক দেশেই আজ মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব মা দিবস। একজন সন্তানের কাছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হচ্ছেন মা। আর আজ অনেক দেশেই বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখা হচ্ছে দিনটি।

কিন্তু একদিনে যখন সারা বিশ্ব মা দিবস উদ্‌যাপনে ব্যস্ত, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ফিলিস্তিনের ছোট্ট একটি অবরুদ্ধ ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় সন্তান হারিয়ে হাহাকার করছেন হাজার হাজার মা। প্রতি মুহুর্তে ‘হাতের মুঠোয় জীবন’ নিয়ে আতঙ্কে সময় পার করছেন ফিলিস্তিনি মায়েরা।

অভুক্ত পেটে, স্বামী-সন্তান আত্মীয়স্বজন হারানোর অব্যক্ত কষ্ট বুকে নিয়ে ইসরায়েলের হামলার মাঝেই দিন পার করছেন অসহায় এই মায়েরা।

গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি মায়েরা কি পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তা তাদের না দেখলে বুঝা দায়।

গত বছরের সাত অক্টোবর থেকে অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজাতে ইসরায়েলি হামলায় ৩৪ হাজার ৯৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। মায়ের কোল ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে হাজার হাজার শিশু।

এই হামলার ফলে অসংখ্য মা তাদের সন্তানদের হারিয়েছে, আবার হাজারও শিশু মা ও পরিবারকে হারিয়ে অনাথ হয়ে পড়েছে।

৫৫ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি মা হানা আবু জাবাল। যুদ্ধে আট সন্তানের মধ্যে এক শিশু সন্তান হারিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, "মায়ের জন্য সন্তান হারানো মানে তার আত্মা হারানো।"

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর তার পরিবার রাফাহতে তাঁবুতে থাকতে শুরু করে। তিনি বলেন, “আমরা খুব কঠিন পরিস্থিতিতে বাস করছি। পানি নেই, খাবার নেই, কাপড় নেই। এর মধ্যেও আমরা গণহত্যার হুমকির সম্মুখীন হচ্ছি।“

ফিলিস্তিনি মায়েদের দুর্দশা ভাষায় বর্ণনা করার মত নয়। বেশীরভাগ নারীই তাদের প্রিয়জন ছাড়া জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়েছেন। শহরজুড়ে খাদ্য সংকট, দুর্ভিক্ষ। কোথাও কোনো খাবার নেই। মাঝে মাঝে ত্রাণের গাড়ি আসলেও ধারেকাছে ঘেষতে পারছেন না নারীরা। যুদ্ধের মধ্যে এ আরেক যুদ্ধ।

৭০ বছর বয়সী নাজাহ আল-আক্কাদ বলেন, “আমার ছেলে আমাকে তিন নাতি-নাতনিসহ রেখে গেছে। ইসরায়েলি হামলায় আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি এবং এখন আমার তিন নাতি-নাতনি বাকি আছে।”

আল-আক্কাদ তার নাতি-নাতনিদের সাথে বেঁচে থাকার সংগ্রামের কথা উল্লেখ করেছেন, উল্লেখ করেছেন যে তাদের পানি, ওষুধ এবং খাবার খুঁজে পেতে কি পরিমাণ কষ্ট ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।

সেখানে খাবার নেই, পানি নেই। বাজারেও পর্যাপ্ত খাবার নেই, কিছু কিছু দোকানে থাকলেও, আকাশচুম্বী দাম। বিশেষ করে গাজাতে নবজাতকদের দুধের হাহাকার সবচেয়ে বেশি। তাঁবুতে দিনের বেলা প্রচণ্ড গরম আর রাতের বেলা প্রচণ্ড ঠান্ডা। এ যেনো মায়েদের সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার এক যুদ্ধ।

ফিলিস্তিনি মায়েরা জানেন না কোনোদিন তাঁরা জন্মভিটায় ফিরে যেতে পারবেন কি না। সন্তান হারানো মায়েরা জানেন না কীভাবে নিজেদের সামলাবেন তারা। লাখ লাখ ফিলিস্তিনি মা কঠিন সময় পার করছেন ধ্বংসস্তূপের মাঝে।

জাতিসংঘের ত্রাণবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ১০ হাজারেরও বেশি নারী নিহত এবং ১৯ হাজার আহত হয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, “গাজায় প্রতিদিন ৩৭ জন শিশু তাদের মাকে হারায়। আর অসংখ্য মা তাদের সন্তানকে হারায়।“

সংস্থাটি বলছে, "গাজার যুদ্ধ নারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসাবে অব্যাহত রয়েছে।"

সূত্র: মিডলইস্ট আই।