নেত্রকোণায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজ পছন্দের ঠিকাদারকে পাইয়ে দিতে নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রত্যয়ন জালিয়াতির লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ করেছেন, একই দপ্তরের ঠিকাদার আব্দুল ওয়াহাব নামের এক ব্যাক্তি। তিনি চলতি মাসের ৫ তারিখ বাংলাদেশ কর্ম কমিশন সচিবালয়ের সচিব বরাবর এ অভিযোগটি দায়ের করেন।
অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনে প্রকৌশলীর বদলি করার দাবিও জানান তিনি। এ ছাড়াও নির্বাহী প্রকৌশলী কিশোরগঞ্জ কর্মরত থাকাকালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অনুমতি ব্যতিরেখে ঢাকা যাওয়া ও সরকারি গাড়ী নিয়ম বর্হিভূতভাবে নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে নিয়ে যাওয়া ও তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলীর ডিপিএইচ ঢাকা সার্কেলের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রমাণও পায় তদন্ত কমিটি। পরে স্থানীয় সরকার সচিব হেলাল উদ্দিন তালুকদার ১৫ অক্টোবর ২০১৯ সালে বিভাগীয় মামলার জন্য সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেন। শাস্তিমূলক বদলি হন নেত্রকোণা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোণার জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাধারণ ঠিকাদারদের কাজ থেকে বঞ্চিত করছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান। তিনি তার পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার জন্য ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ দেন। এরকম একটি ভয়াবহ সার্টিফিকেট জালিয়াতির তথ্য ইজিপি দরপত্র আইডিঃ ৬৯৭১৪৫ সিস্টেম থেকে সংগ্রহ করেন ওয়াহাব। ওই কাজের নাম নাম- Installation of 10 nos 100 mm * 38 mm deep tubewell with submaersible pump at different Upazilas of netrokona district under revenue budget এ প্রকল্পে ঠিকাদারের ১০ লাখ টাকার কাজ বাস্তবায়ন এর অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। অভিজ্ঞতা না থাকলেও ভূয়া সনদ দিয়ে মেসার্স সানি ট্রেডার্সকে টেন্ডার ড্রপ করান। ভুয়া সনদটির ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী আবার প্রত্যয়ন প্রদান করেন। এছাড়াও মশিউর রহমান মেসার্স সানি ট্রেডার্সের নামে মূল্যায়ন প্রতিবেদনও দেন। ঠিকাদাররা অনলাইনে বিষয়টি দেখে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে অবহিত করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি তত্ত্ববাবধায়ক প্রকৌশলীকে না দিয়ে সরাসরি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠিয়ে দেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, অভিজ্ঞতার সনদে দেখানো হয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবারাহ প্রকল্পের ৫৩টি টিএসপি কাজ করেছে মেসার্স সানি ট্রেডার্স। অথচ সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবারাহ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুই হয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছরে। প্রকল্প শুরু হওয়ার আগেই কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করার সৌভাগ্য হয় নির্বাহী প্রকোশলী মশিউর রহমান এর বদৌলতে মেসার্স সানি ট্রেডার্সের। অন্য ঠিকাদাররা টেন্ডারে অংশগ্রহণ করলেও কাজ পান না প্রকৌশলীর পছন্দের ঠিকাদার ব্যতীত। গোপন রাখার জন্য অনিয়মের ফাইলগুলো তার অফিসের কাউকে দিয়ে কোন ডকুমেন্টের কাজ করাননি তিনি। এগুলো তিনি নিজেই সংরক্ষণ করতেন।
অভিযোগকারী হাজী আব্দুল ওয়াহাব জানান, আমি কাজ না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান তার কাছে আর যেতে বা দেখা করতে দেয়নি। নিরূপায় হয়ে এপ্রিল মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সচিব বরাবর অভিযোগ দায়ের করি। তারপর থেকে তিনি আমাকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দিতে থাকে। সময়ের সাথে সাথে তিনি আমাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করেন। এরপর থেকে আমি গা ডাকা দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমি স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চাই। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মেসার্স সানি ট্রেডার্স নামের ঠিকাদার থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে নেত্রকোণা নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মশিউর রহমান জনান, আপনি নিউজ করেছেন আবার কথা বলতে চাচ্ছেন। আমি ছুটিতে আছি। কথা বলতে হলে অফিসে আইসেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে বাংলাদেশ কর্ম কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল এর সাথে কথা বলতে ফোন করলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার পিএ শাহীন জানান, স্যার অসুস্থ। তিনি বিশ্রামে আছেন।