হজ ক্যাম্প দূর থেকে আসা হজযাত্রীদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র। লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত এই ক্যাম্প। সামাজিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে হাজিদের বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে থাকে ইসলামী ব্যাংক। প্রতিবছর আশকোনায় হজ ক্যাম্পে হজবুথ স্থাপনের মাধ্যমে হজযাত্রীদের ব্যাংকিং সেবা, তথ্য ও হজে ব্যবহার উপযোগী উপহার দিয়ে থাকে।
ব্যাংকিং সেবার মধ্যে হজযাত্রীদের বাংলা টাকার বিনিময়ে সৌদি রিয়াল সরবরাহ করা, ডেবিট ও খিদমাহ কার্ড এন্ডোর্সমেন্ট করে দেওয়া হয়। হজযাত্রীরা যাতে সহজে নগদ টাকা উত্তোলন করতে পারেন সেজন্য ইসলামী ব্যাংক এটিএম স্থাপন করে থাকে। ভিসা সুবিধাযুক্ত অন্য ব্যাংকের কার্ডধারীরাও এখান থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারেন। ডেবিট ও খিদমাহ কার্ড এন্ডোর্সমেন্টের মাধ্যমে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে ভিসা লোগো-সংকলিত যেকোনো বুথ থেকে রিয়াল উত্তোলন করতে পারবেন।
হজযাত্রীদের ব্যাংকিং-সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্যাদি সরবরাহ করা হয়। আগত হজযাত্রীদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা থাকে। সেবাগ্রহণকারীদের ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে ছাতা, হ্যান্ডব্যাগ, জুতার ব্যাগ এবং মিনায় পাথর নিক্ষেপের জন্য পাথর রাখার ব্যাগ দেওয়া হয়। হজ পালনের নিয়মাবলি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন তথ্য-সংবলিত লিফলেট ও হজ গাইডলাইন দেওয়া হয়। এসব উপকরণ হজযাত্রীদের জন্য সহায়ক এবং হজ পালনকে আরও সহজ এবং সুবিধাজনক করে তোলে। হজক্যাম্প থেকে বিমান পর্যন্ত যাতায়াত নির্বিঘ্নে করতে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসকে ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাস সরবরাহ করা হয়। হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে ইসলামী ব্যাংকের দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেবা দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া পবিত্র হজ পালনে আগ্রহী ব্যক্তিদের হজ পরিপালনে আর্থিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ‘হজ সঞ্চয় প্রকল্প’ চালু করেছে। মুদারাবা হজ সেভিংস অ্যাকাউন্ট (এমএইসএসএ) বিশেষ এই সঞ্চয় হিসাবটি হজ পালনের উদ্দেশ্যে গ্রাহকদের জন্য সাজানো হয়েছে। এ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গ্রাহক তাদের হজ পালনের জন্য ধীরে ধীরে অর্থ সঞ্চয় করতে পারেন এবং এটি তাদের হজ পালনের জন্য আর্থিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে।
এ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সঞ্চিত অর্থ হজ পালনের বিভিন্ন খরচ যেমন : ভিসা, বিমান ভাড়া, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য খরচের জন্য ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের হজ সম্পর্কিত বিভিন্ন পরামর্শ এবং সেবা প্রদান করে থাকে, যা হজ পালনের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ এবং সুব্যবস্থিত করে তোলে। এই অ্যাকাউন্ট হজ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি সুবিধাজনক এবং পরিকল্পিত উপায় হিসেবে কাজ করে। গ্রাহক তার সামর্থ্য ও পরিকল্পনা অনুযায়ী এক থেকে পঁচিশ বছর মেয়াদি মুদারাবা হজ সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। মুদারাবা পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ মুনাফা প্রদান করা হয় এ হজ অ্যাকাউন্টে। পরিকল্পনা ও আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী হিসাবের মেয়াদের ভিত্তিতে কিস্তির পরিমাণ নির্ধারিত হয় বিধায় গ্রাহকের কাছে হজের জন্য টাকা জমানো অধিকতর সহজ। জমাকারী যদি পূর্বনির্ধারিত সময়ের পূর্বেই হজ সম্পাদনে আগ্রহী হন, তাহলে তিনি তার মুদারাবা হজ সঞ্চয় হিসাবে জমাকৃত অর্থের সঙ্গে ওই বছর নির্ধারিত হজের টাকার অবশিষ্টাংশ জমা করে হজ পালন করতে পারবেন।