গরুর মাংস সুস্বাদু ও তৃপ্তিদায়ক খাবার। কারণ গরুর মাংসে রয়েছে উচ্চ মানের প্রোটিন, যা তৃপ্তিবোধ করে ক্ষুধা কমায় ও বিপাক হার বাড়ায়। কারণ এতে মায়োগ্লোবিন উপস্থিত রয়েছে। আরও আছে উচ্চ মানের প্রোটিন ও বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ। গরুর মাংস খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। রক্তস্বল্পতা, শারীরিক শক্তি, ক্লান্তি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি, রোগ প্রতিরোধসহ একাধিক উপকারিতা আছে। তবে অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর উপায়ে গ্রহণ করতে হবে।
মাংস খাওয়ার নিয়ম ও সতর্কতা
গরুর মাংস খাওয়ার সময় ফ্যাট বা চর্বির দিকে খেয়াল রাখবেন। বিশেষ করে যাদের ওজন বেশি, ফ্যাটি লিভার, কোলেস্টেরলসহ নানা শারীরিক সমস্যা। এক্ষেত্রে লীন বা চর্বি বাদে মাংস খাবেন। কারণ ১ আউন্স লীন মিটে ৩ গ্রাম ফ্যাট ও ৫৩ গ্রাম ক্যালরি। অধিক লীন মিটে ১ গ্রাম চর্বি ও ৩৫ গ্রাম ক্যালরি। মিডিয়াম বা মাঝারি ফ্যাট হলে ৫ গ্রাম ফ্যাট ও ৭৫ ক্যালরি। আর উচ্চ চর্বি মাংস হলে ৮৫ গ্রাম ফ্যাট ও ১০০ ক্যালরি। এখানে চর্বির পাশাপাশি ক্যালরি বেশি, যা সবার জন্য উপযুক্ত নয়। গরুর মাংসে বেশি পরিমাণে আয়রন রয়েছে। এ জন্য গরুর মাংস খাওয়ার পরপরই চা, কফি খাবেন না। এতে আয়রন শোষণে বাধাগ্রস্ত হবে। আমাদের দেশে বেশিরভাগ শিশু, কিশোর, গর্ভবতী, স্তন্যদানকারী মহিলারা আয়রনের অভাবজনিত সমস্যায় ভোগে, যা আয়রনের চাহিদা পূরণ করবে এই মাংস।
গরুর মাংস খাওয়ার পর অনেকেই কোমল পানীয় যেমন পেপসি, কোকাকোলা ইত্যাদি পান করেন। অথচ এসব খাওয়া ঠিক নয়। কারণ গরুর মাংসে ফসফরাস ও সোডিয়াম থাকে। তাই উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। যাদের আগে থেকে উচ্চ রক্তচাপ তারা আরও সাবধান।
ঈদের মধ্যে মিষ্টি আইটেম বেশি থাকে। তাই অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে ১ থেকে ২ বার খাবেন।
প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিরা দিনে ৭০ থেকে ৮০ গ্রামের বেশি খাবেন না। গরুর মাংসে ভালো পরিমাণে প্রোটিন আছে। প্রোটিনের চাহিদা পূরণে শুধু মাংস খাবেন না। খাবারে বৈচিত্র্য আনতে হবে। কারণ অতিরিক্ত প্রাণিজ থেকে আসা প্রোটিন কিডনির ক্ষতি এবং শরীরে চর্বি জমবে।
শুধু গরুর মাংস বেশি করে না খাইয়ে সালাদ, সবজি যোগ করে খাবেন। মাংস হজম হতে বেশি সময় নেয়। তাই অতিরিক্ত খেলে পরিপাকতন্ত্রে প্রভাবিত করবে। যেমনÑ পেট ফাঁপা, পেট ভারী, এমনকি দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। এ জন্য মাংস খাওয়ার সময় সালাদ, দই, বোরহানি, ক্যাপসিকাম, টামেটো খেতে পারেন। এ ছাড়া মাংস খাওয়ার পর কুসুম গরম পানি খেতে পারেন। গরুর মাংস ভালোভাবে সেদ্ধ করে খেতে হবে। কারণ ভালো করে সেদ্ধ না হলে সালমোনেলা ও ই কোলি ব্যাকটেরিয়ার কারণ হতে পারে। এ ছাড়া এর পুষ্টি শোষণ নিশ্চিত হবে না। দীর্ঘসময় ধরে উচ্চ তাপে রান্না করলে গরুর মাংসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা হারায় এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াতে সক্ষম। উচ্চ তাপে রান্না করলে ভিটামিন বি প্রায় ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়।
গরুর মাংস খাওয়ার নিরাপদ মাত্রা হলো সপ্তাহে ২ দিন বা ১৫০ গ্রামের বেশি নয়।
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কাঁচা বা কম রান্না করা মাংস খাওয়া উচিত নয়। এতে টক্সোপ্লাজমার ঝুঁকির কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত কলিজা খাওয়া ঠিক নয়। এতে আছে ভিটামিন এ; যা শিশুর ক্ষতির কারণ হতে পারে। মাংস একেবারে অনেক রান্না করে বারবার গরম করে খাবেন না। এতে পুষ্টিগুণ হারাবে।
গরুর মাংস কারা কতটুকু খাবেন
যারা শারীরিক পরিশ্রম করেন, বাড়ন্ত বয়সের ছেলেমেয়ে, বডিবিল্ডার করছেন, সার্জারি থেকে সেরে সুস্থ হয়েছেন তারা গড়ে ২০০ গ্রামের বেশি মাংস খেতে পারবেন।
যাদের ডায়াবেটিক আছে, ফ্যাটিলিভার, আইবিএস সমস্যা তারা গড়ে ২০০ গ্রামের নিচে মাংস খাওয়ার চেষ্টা করুন।
যারা স্ট্রোক, হার্ট ডিজিজ, গলবাল্ডারের সমস্যা কিডনি প্রথম ধাপে তারা ১০০ গ্রামের নিচে গরুর মাংস খাবেন।
ওজন বেশি কোলেস্টেরল খুব বেশি নয়, তারা ১ থেকে ২ টুকরার বেশি খাবেন না।
