শেষ দিনের রোমাঞ্চের অপেক্ষা

টটেনহ্যাম-ম্যানসিটি ম্যাচের তখন ৮৬ মিনিট। সিটির ডিফেন্ডার আকাঞ্জির ভুলে মাঝ মাঠের একটু ওপর থেকে বল পেয়ে যান টটেনহ্যামের সন হিউং মিন। দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন। সামনে আগুয়ান গোলরক্ষক স্টেফান ওর্তেগা। কিন্তু সন যে শট নেন, তা হাত-পা প্রসারিত ওর্তেগার শরীরে আটকে যায়। গোলটা যদি করতে পারতেন সন, ১-১ সমতায় ফিরত ম্যাচ। এই অবস্থায় খেলা শেষ হলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াই অন্যরকম হতে পারত।

এমনটি হয়নি। কিছুক্ষণ পরে সিটি পেয়ে যায় পেনাল্টি। আর্লিং হালান্ড দ্বিতীয় গোল করলে ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিটি। এই জয়ে ৩৭তম রাউন্ড শেষে ৮৮ পয়েন্টে টেবিলের শীর্ষে পেপ গার্দিওলার দল। আর্সেনালের চেয়ে দুই পয়েন্টে এগিয়ে থেকেই আগামী রবিবার শেষ দিনে শিরোপা লড়াইয়ে নামবে ম্যানসিটি।

শেষ দিনের প্রবল চাপ জয় করার কঠিন চ্যালেঞ্জ দেখছেন সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। সিটি যে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারেনি টটেনহ্যামের বিপক্ষে সেটিও মানছেন সিটির কোচ। গার্দিওলা বলেন, ‘ওরা ফলাফলের ভাবনা মাথায় রেখে খেলছিল (প্রথমার্ধে)। এ রকম করলে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করা যাবে না, প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা হারাতে হবে। তবে ওরাও মানুষ। ওদের চাপ আমি বুঝতে পারি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে আর্সেনালও (গত রবিবার) খুব ভালো খেলতে পারেনি। কিন্তু তারা জানত, এখানে জিততে না পারলে শিরোপা জিততে পারবে না। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বের করে নিয়েছে তারা।’

রবিবার একই সময়ে ম্যাচ খেলবে ম্যানসিটি ও আর্সেনাল। সেখানে সিটির প্রতিপক্ষ ওয়েস্টহ্যাম। আর আর্সেনালের প্রতিপক্ষ এভারটন। সিটি নিজেদের ম্যাচটি জিতলে কোনোরকম হিসাব ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে। আর্সেনালের শিরোপার সমীকরণ একটু কঠিন। এভারটনকে শুধু হারালেই চলবে না, সিটির ম্যাচের ফলও তাদের পক্ষে আসতে হবে। সিটির ড্র আর আর্সেনালের জয়ে পয়েন্ট দাঁড়াবে সমান ৮৯। সেক্ষেত্রে গোল গড়ে এগিয়ে (এখন +১) থাকার সুবাদে শিরোপা জিতবে আর্সেনাল।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে কোনো দলই টানা চারবার শিরোপা জিততে পারেনি। এবারের শিরোপা সেই অনন্য কীর্তি এনে দেবে ম্যানসিটিকে। কাজটা নিজেদের হাতে থাকলেও কাজটাকে ভীষণ কঠিন বলেই মনে করেন গার্দিওলা, ‘ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষেও একই ব্যাপার থাকবে... আমরা চাপ অনুভব করব। কয়েক মৌসুম আগে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচটির কথা মনে করুন (২০২১-২২), ম্যাচের ১৫ মিনিট বাকি থাকতেও ২-০ তে পিছিয়ে ছিলাম, বা কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের বিপক্ষে আগুয়েরোর সেই গোল ৯৩তম মিনিটে... এসব এখানে স্বাভাবিক।’ ২০১১-১২ মৌসুমে ম্যানচেস্টারের দুই দলের পয়েন্ট সমান হয়েছিল, গোল ব্যবধানে শিরোপা জিতেছিল ম্যানসিটি। শেষ দিনে ম্যানসিটি-কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্স ম্যাচটি ২-২ সমতায় ছিল, যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সার্জিও আগুয়েরো গোল করে দলকে জেতান।

ম্যানসিটি রবিবার শেষ ম্যাচটি খেলবে ঘরের মাঠে। দর্শকদের কাছেও তাই প্রেরণা জোগানোর আর্তি জানিয়ে রাখলেন কোচ। ‘আমরা জানি, আমরা কোন লক্ষ্যে খেলতে নামব। টেনশন থাকবেই। প্রতিপক্ষও খুব ভালো। এজন্যই কাজটা কঠিন। সবাই মাঠে আসুন ও গলা ফাটিয়ে সমর্থন দিন। নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেব।’