ফুটবলের সকল আন্তর্জাতিক আসর থেকে ইসরায়েলের জাতীয় ও ক্লাব দলকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে ফিলিস্তিনি ফুটবল সংস্থা । ফুটবলের শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে রাজি হয়েছে।
আজ শুক্রবার ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আল জাজিরা ও এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনি ফুটবল সংস্থা যুক্তি দিয়েছে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড অধীগ্রহণ করেছে এবং অধীকৃত ভূখণ্ডে অবস্থিত ইসরায়েলি ফুটবল দলগুলোকে স্থানীয় লিগে অংশ নিতে দিচ্ছে। যার ফলে দেশটির জাতীয় দল ও ক্লাব দলগুলোকে শাস্তির আওতায় আনা উচিৎ।
দেশটি আরও যুক্তি দিয়েছে, ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আওতাধীন এলাকায় বর্ণবিদ্বেষ ও বৈষম্য চলতে দিয়ে ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রকারান্তর গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনকে সমর্থন জানিয়েছে। যা ফিফার সনদের লঙ্ঘন।
ফিলিস্তিনের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে এশীয় ফুটবল কনফেডারেশন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় জানান, ফিফা ফিলিস্তিনের দাবিকে বিবেচনায় নেবে এবং নিরপেক্ষ আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করবে। ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) আশা করছিল এই বৈঠকে ভোটের মাধ্যমে নিষিদ্ধের বিষয়টির সুরাহা হবে।
তবে ইনফান্তিনো বলেন, 'ফিফা ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তিন দাবি নিয়ে নিরপেক্ষ আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং ফিফার সনদ ও নীতিমালা যেন সঠিকভাবে এ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, তা নিশ্চিত করবে।'
পরিস্থিতির গুরত্ব বিবেচনায় এ বছরের ২০ জুলাইর আগেই ফিফার একটি বিশেষ সভার আয়োজন করা হবে, যেখানে এই আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফল নিরীক্ষা করে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগেও সরকারের উদ্যোগের কারণে ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ফিফা। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পর রুশ দলগুলোকে সব আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইসরায়েল নিষিদ্ধের দাবিকে ‘বিদ্রুপাত্মক’ বলে অভিহিত করেছে।