গাজায় ঢুকছে ৫০০ টন ত্রাণ

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার একটি অস্থায়ী সমুদ্রবন্দর থেকে ত্রাণ সরবরাহ শুরু হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার (১৭ মে) সকালে বন্দর থেকে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো গাজার মূল ভূখণ্ডের উদ্দেশ রওনা দেয়। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো ৫০০ টন ত্রাণসহ মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যানারযুক্ত একটি জাহাজ অস্থায়ী সমুদ্রবন্দরে নোঙ্গর করে। খবর আল আরাবিয়ার।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, গাজার অস্থায়ী সমুদ্রবন্দরে ৫০০ টন ত্রাণসহ একটি জাহাজ পৌঁছেছে। পণ্য খালাস শেষে শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯ টার দিকে গাজার মূল ভূখণ্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ১৫০টি ট্রাক। গাজার অস্থায়ী সমুদ্রবন্দরে ত্রাণ পৌঁছানোর এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। আমরা আশা করি অন্যান্য দেশও গাজায় ত্রাণ পাঠাতে এই বন্দর ব্যবহার করবে।

গাজার ভৌগলিক আয়তন ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার। এ উপত্যকার উত্তর ও পশ্চিমে ইসরায়েল সীমান্ত, দক্ষিণে মিসর সীমান্ত এবং পূর্বদিকে ভূমধ্যসাগর অবস্থিত। তবে উপকূল থাকা সত্ত্বেও গাজায় কোনো স্থায়ী সমুদ্রবন্দর নেই।

২০০৬ সালে হামাস ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে গাজার উত্তর ও পশ্চিম সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। তারপর থেকে উপত্যকায় খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা দক্ষিণের মিসরীয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করত; কিন্তু বর্তমানে সীমান্তপথটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরায়েল।

গাজা উপত্যকায় বসবাসরত ২২ লাখ ফিলিস্তিনির এক তৃতীয়াংশই বিদেশি ত্রাণের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকে সেখানে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে কয়েকগুণ। এর মধ্যে গত সপ্তাহে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা সীমান্ত ক্রসিংয়ের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ইসরায়েলের কাছে। ফলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে এ ভূখণ্ডের ফিলিস্তিনিরা। 

গত ৭ মার্চ গাজায় অস্থায়ী সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তার এই ঘোষণার প্রায় দেড় মাস পর ২৬ এপ্রিল থেকে গাজায় অস্থায়ী সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। কয়েক দিন আগে সেই বন্দর নির্মাণের কাজ শেষ হয়।

জাতিসংঘ বলছে, সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়া এবং গাজায় আরও ত্রাণবাহী ট্রাক ঢোকার অনুমতি দেওয়াই ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট রোধের একমাত্র উপায়।