মিয়ানমারে ‘যুদ্ধে বাধ্য’ অভিবাসীরা, রাজি না হলে হত্যা

  • অভিবাসী শ্রমিকদের জোর করে যুদ্ধে পাঠাচ্ছে মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি
  • প্রশিক্ষণ থেকে পালিয়ে যাবার পর ধরা পড়লে তিন মাস ধরে গাছে ঝুলিয়ে রাখা, কারাগারে নিক্ষেপ ও হত্যার অভিযোগ
আপডেট : ১৭ মে ২০২৪, ০৬:২৪ পিএম

চাপপ্রয়োগ করে অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মির (এমএনডিএএ) বিরুদ্ধে। দেশটির শান রাজ্যে যুদ্ধে অংশ নিতে রাজি না হলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি বেসামরিকদের নির্যাতন, এমনকি হত্যা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ব্যাংককভিত্তিক মিয়ানমারের সংবাদ সংস্থা ইরাবতী জানিয়েছে, শান শহরে সফল লড়াই শেষে রাজধানী লাউক্কাইয়ে ফেরার পর প্রায় এক হাজার অভিবাসী শ্রমিককে ফ্রন্ট লাইনে পাঠিয়েছে এমএনডিএএ। লাউক্কাইসহ পুরো কোকাং স্ব-শাসিত অঞ্চলটি গোষ্ঠীটির আওতায়।

কয়েক মাস লড়াইয়ের পর শতাধিক সেনা সদস্য অস্ত্র জমা দিয়ে গত জানুয়ারিতে থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের কাছে লাউক্কাই হস্তান্তর করে। এ আত্মসমর্পণ গত কয়েক দশকের মধ্যে সামরিক বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতিগুলোর একটি। এ ঘটনা সমর্থকদের মধ্যে জান্তার নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনার জন্ম দেয়।

একজন পলাতক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, এই লড়াইয়ের সময় অভিবাসী শ্রমিকরা লাউক্কাই থেকে পালিয়ে যায়। ফেরার পর তাদের ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য করা হয়। এরপর লাশিওর কাছে এমএনডিএএ ফ্রন্ট লাইনে পাঠানো হয় তাদের। সেখানে জান্তার নর্থইস্টার্ন কমান্ড অবস্থিত।

ধারণা করা হচ্ছে, এমএনডিএএ দুই হাজারের বেশি অভিবাসীকে সদস্য করেছে। তবে তাদের মধ্যে অনেকে পালিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ পালাবার সুযোগ খুঁজছে। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সামরিক প্রশিক্ষণ থেকে পালিয়ে যাবার পর যাদের উদ্ধার করা হয়েছে তাদের কাউকে তিন মাস ধরে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে অথবা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ইরাবতী স্বাধীনভাবে এই অভিযোগ যাচাই করতে পারেনি। এ বিষয়ে এমএনডিএএর মুখপাত্রের কোনো বক্তব্যও নেয়া হয়নি। তবে গত ডিসেম্বরে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ রিপোর্ট করেছে, গোষ্ঠীটি শান রাজ্যে লড়াই থেকে পালিয়ে আসা বেসামরিক নাগরিকদের অপহরণ ও জোরপূর্বক নিয়োগ দিচ্ছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত