ভোগান্তির জীবন

যানজটে থেমে থেমে ঘুরছে চাকা

শাহবাগ থেকে একটা জরুরি কাজ সায়েন্সল্যাব যাওয়ার জন্য রিকশায় উঠি। তীব্র গরমের মধ্যে এটুকু রাস্তা যেতে আমার সময় লাগে ৩৫ মিনিট। গাড়ির হর্ন আর গরমে আমার অবস্থা কাহিল হয়ে যায়। রাস্তার দুপাশেই বাস, প্রাইভেট কার, রিকশা থেমে ছিল। পুরো সময়ে চাকা তো ঘুরেই নি বরং থেমে ছিল। বছরের পর বছর এই এলাকায় যানজট লেগেই থাকে অথচ এর থেকে উত্তরণের উপায় বের করা হচ্ছে না। অথচ কাজ শেষে ফেরার পথে হেঁটে ফিরতে আমার সময় লাগে মাত্র ১২ মিনিট। - রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় দাঁড়িয়ে দেশ রূপান্তরকে বলছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুজ্জামান।

রাজধানীর নিউমার্কেট, সায়েন্সল্যাব, আজিমপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। এসব এলাকার সড়কে থমকে আছে সারি সারি বাস, কার, মোটরসাইকেল ও রিকশা। একই জায়গায় মিনিটের পর মিনিট যানবাহনের চাকা থেমে কিছুক্ষণ চলে তো আবার বন্ধ হয়ে যায়। অস্বস্তিকর গরম আর তীব্র যানজটে এভাবেই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ঢাকার নগর জীবন।

বাসযাত্রী রবিউল ইসলাম বলেন, গাড়ির চাকা যখন থেমে যায় তখন গরম বেশি অনুভব হয়। অধিকাংশ গাড়ির ফ্যান নষ্ট ফলে ঘামতে ঘামতে বাসায় ফিরতে হয়। রাস্তায় কোনো বাতাস নেই রোদের উত্তাপে জীবন যায়।

এদিকে গরমে রিকশাচালকের কষ্ট বাড়লেও আয় কমেছে। রিকশাচালক শাহিন মিয়া বলেন, যখন গরম বেশি থাকে তখন বিকেল ৩টা থেকে রিকশা নিয়ে বের হই। একদিকে গরম অন্যদিকে যানজট ফলে আয় কমে অর্ধেকে নেমে গেছে। জটে দাঁড়িয়ে থাকলে গরম আরও বেশি লাগে। অন্য গাড়ির উত্তাপে আমাদের কষ্ট হয়। অন্য সময় দিনে ১০০০ হাজার টাকা আয় হলেও গরমে ৫০০ টাকাই রোজগার করা কঠিন হয়ে যায়।

 তিনি বলেন, এখন দিনের বেলা চায়ের দোকানে কাজ করি এবং বিকেলে রিকশা নিয়ে বের হই। সবকিছুর খরচ এমনভাবে বেড়েছে যে জীবন চলে না।

বাসযাত্রী মাহফুজা বেগম বলেন, বছরের পর বছর জ্যাম ঠেলেই আমরা রাজধানীতে বসবাস করি। সারাদিন কর্মস্থলের প্রেশারের পর যাত্রাপথের ভোগান্তি। এই জীবন আসলে জীবন নয় এ কেবল টিকে থাকার লড়াই। সরকার পরিবর্তন হয়, মন্ত্রী সচিব পরিবর্তন হয় কিন্তু এই এলাকার জ্যামের কোনো পরিবর্তন হয় না। মেট্রোর কারণে ঢাকার একটা অংশের মানুষ অনেক সুবিধা পেলেও আমাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।