ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে চট্টগ্রাম নগরীতে যানজট পরিস্থিতির ততই অবনতি হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও বিভিন্ন মার্কেটকেন্দ্রিক ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও ফুটপাত দখল করে দোকানদারদের ব্যবসা। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজের সময় বাড়ানো হয়েছে। রাস্তায় নামানো হয়েছে অতিরিক্ত সদস্য। তারপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মোড়েই গাড়ির লম্বা লাইন। এতে কর্মস্থল ও বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী লোজনকে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। যানজটে আটকা পড়ে গাড়ির ভেতরেই পানি খেয়ে ইফতার সারছেন অনেকে। নগরীর অভিজাত মার্কেটগুলোর বেশিরভাগই পড়েছে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উত্তর জোনের আওতায়। এর মধ্যে রয়েছে নিউ মার্কেট, রেয়াজউদ্দিন বাজার, টেরিবাজার, আমিন শপিং সেন্টার, ইউনুসকো সিটি সেন্টার, সেন্ট্রাল প্লাজা, সানমার ওশ্যান সিটি, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স, মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, চকবাজার মতি টাওয়ার, গুলজার টাওয়ার, বহদ্দারহাট স্বজন সুপার মার্কেট ইত্যাদি। এসব বিপণিকেন্দ্রে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জমজমাট বেচাকেনা চলছে। আর এই মার্কেটকেন্দ্রিক যানজটের প্রভাব পড়ছে সড়কগুলোতে। এর পাশাপাশি নগরীজুড়ে চলমান ওয়াসার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।
জানতে চাইলে সিএমপির উপকমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) হারুনুর রশিদ হাজারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রমজান মাসের মাঝামাঝি থেকে প্রচুরসংখ্যক মানুষ ঈদের কেনাকাটার জন্য বের হচ্ছে। তাছাড়া ফুটপাতগুলোর বেশিরভাগই এখন হকারদের দখলে চলে গেছে। এতে মানুষ বাধ্য হয়ে ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছে। এসব কারণে যানজট কিছুটা বেড়েছে।’
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক যানজট নিয়ে উদ্বিগ্ন ট্রাফিক বিভাগের বন্দর জোনের কর্মকর্তারা। রোজায় বেড়ে যায় বিশেষ কিছু ভোগ্যপণ্যের আমদানি। ঈদের ছুটির আগে আমদানি পণ্য খালাস ও রপ্তানিপণ্য জাহাজীকরণের তাড়া থাকে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। পণ্য নেওয়ার জন্য প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার লরি, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ঢোকে চট্টগ্রাম বন্দরে। বন্দরে গাড়ি প্রবেশ ও পণ্য নিয়ে বের হওয়া ঘিরে সৃষ্ট যানজটের প্রভাব পড়ে নগরীর বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে শুরু করে সল্টগোলা ক্রসিং পর্যন্ত। এছাড়া সিডিএ’র বিমানবন্দরমুখী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, হালিশহর এক্সেস রোড ও পোর্ট কানেক্টিং রোডে দীর্ঘদিনের সংস্কার কাজের কারণে দিনের বেশিরভাগ সময়ই থমকে থাকে যানবাহনের গতি। বিকেলে সিইপিজেডে পোশাক কারখানা ছুটি হওয়ার পর যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ভোগে পড়ে বিমানবন্দরমুখী যাত্রীরা।
