ঢাবিতে গোলাম মাওলা রনির গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা

পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির গাড়িতে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। গাড়িতে হাতুড়ি দিয়ে হামলা করে পালিয়ে যায় তারা। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত না হলেও গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়। মঙ্গলবার (২১ মে) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নেতার মাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গোলাম মাওলা রনি নিজ বাসা থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে ঢাবি ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে তিন নেতার মাজার এলাকায় পৌঁছালে সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন যুবক এসে অতর্কিতভাবে তার গাড়িতে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলযোগে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হামলায় তিনিসহ তার ড্রাইভার আঘাত না পেলেও গাড়িটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কে বা কারা এই ঘটনাটা ঘটিয়েছে সেটি এখনো জানা যায়নি। তবে ঘটনার পরপর ছাত্রলীগ সভাপতিকে ফোন করেন গোলাম মাওলা রনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোলাম মাওলা রনি বলেন, বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি-দোয়েল চত্বর হয়ে অফিসে যাচ্ছিলাম। এমন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নেতার মাজার এলাকার পুষ্টি ইন্সটিটিউটের উল্টো পাশের ইউটার্নের কাছে গাড়ি পৌঁছালে সেখানে দাঁড়ানো কয়েকজন ছেলে হঠাৎ আমার গাড়িতে হামলা করে। তাদের সবার হাতে হাতুড়ি ছিলো এবং তারা আমার গাড়ির উইন্ড স্ক্রিন ভেঙে ফেলে। পরে হামলাকারীরা পেছন দিকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা শুরু করলে ড্রাইভার গাড়ি চালিয়ে সেই জায়গা দ্রুত ত্যাগ করে। আমরা গাড়িতে অবস্থান করায় আমাদের কেউ আহত হইনি।

পরবর্তীতে হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে গোলাম মাওলা রনি লিখেন, আমার গাড়ি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোরেলের স্টেশন পাড়ি দিয়ে পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের উল্টো দিক দিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখন ইউটার্ন নেওয়ার জায়গায় ৪-৫ জন যুবক হাতুড়ি এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আমার গাড়ির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গাড়ির গ্লাস ভেঙে ফেলল। হতচকিত ড্রাইভার প্রথমে গাড়ি ব্রেক করলেন। তারপর আবার দ্রুত টান মেরে জল্লাদদের কবল থেকে বাঁচার চেষ্টা করলেন। হাতুড়ি বাহিনী পেছনে ছুটল আর অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিতে লাগল। অফিসে এসে আমি বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালাম। তারা বেশ আন্তরিকতা নিয়ে প্রতিকারের আশ্বাস দিলেন। আমি ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামকেও ফোন করে ঘটনা জানালাম। তিনিও সান্ত্বনা দিলেন।

তিনি আরও লিখেন, আমার কপালে আগামী দিনে কি ঘটবে তা আমি জানি না। এটা নিয়ে আমার কোনো উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠাও নেই। কারণ আমি জন্ম থেকেই ছন্নছাড়া মানুষ। জীবনের প্রতি মায়া, বেঁচে থাকার স্বপ্ন বা কোনোকিছু পাওয়ার লোভ কোনোদিন আমাকে তাড়িত করেনি। সুতরাং মরে যাওয়া বা কেউ আমাকে মেরে ফেলবে এটা নিয়ে হৈচৈ করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। বর্তমানে আমার ব্যবসা বাণিজ্য প্রায় বন্ধ। চলমান দুর্বিষহ সময়, চারদিকের হাহাকার, অভাব অভিযোগ, মানুষের আর্তনাদ ইত্যাদি বিষয় আমাকে যেভাবে আহত করে, সেখানে কেউ যদি কষ্ট করে আমাকে মারতে আসে এবং মেরে ফেলে তাহলে অনেক ঝামেলা থেকেই বেঁচে যাই।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাজিরুর রহমান বলেন, দুপুরের দিকে গোলাম মাওলা রনির গাড়িতে হামলার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। উনি লিখিত অভিযোগ করেননি তবে তিনি আমাদের ফোনে বিস্তারিত জানিয়েছেন। কে বা কারা এই হামলায় জড়িত আমরা বিস্তারিত তদন্ত করছি।