ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মুম্বাই বিমানবন্দরে বিমান অবতরণের সময় ধাক্কা লেগে অন্তত ৩৯টি ফ্ল্যামিঙ্গোর মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার রাতে মুম্বাইয়ের ঘাটকোপারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ফ্ল্যামিঙ্গোর একটি ঝাকের সাথে এমিরেটসের একটি বিমানের ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
এমিরেটসের একজন মুখপাত্র ভারতের গণমাধ্যমকে জানান, দুবাই থেকে মুম্বাই যাওয়ার ফ্লাইটটি অবতরণ করার সময় ফ্ল্যামিঙ্গোর ঝাঁকের সাথে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করাতে পারেন পাইলট।
মুখপাত্র জানান, "বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং সমস্ত যাত্রী ও ক্রু কোনো আঘাত ছাড়াই বিমান থেকে নেমেছে। তবে দুঃখজনকভাবে, বেশ কয়েকটি ফ্ল্যামিঙ্গো প্রাণ হারিয়েছে এবং এমিরেটস কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সহযোগিতা করছে।"
বিবিসি জানায় ঘাটকোপারের একদল শিশু রাস্তায় ফ্ল্যামিঙ্গোগুলোর মৃতদেহ দেখতে পাওয়ার পর সোমবার গভীর রাতে এ ঘটনা প্রকাশ হয়। তৎক্ষণাৎ বাসিন্দারা বন্যপ্রাণী কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে অবহিত করেন।
পরবর্তীতে বন কর্মকর্তা অমল ভাগবত জানান যে, সোমবার গভীর রাতে প্রায় ২৯টি ফ্ল্যামিঙ্গোর মৃতদেহ পাওয়া গেছে এবং মঙ্গলবার সকালে আরও দশটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে।"
এদিকে সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, বন অধিদপ্তর এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে মৃত ফ্ল্যামিঙ্গোগুলোর নমুনা সংগ্রহ করেছেন বন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় পাইলটকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তারা।
বিমানবন্দরের আশপাশে এই ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি বলে দাবি করেছেন বন অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা এস ভি রামারাও । ধারণা করা হচ্ছে, ফ্ল্যামিঙ্গোগুলো কাছাকাছি কোন অভয়ারণ্যের দিকে উড়ে যাওয়ার সময় তাদের পথ পরিবর্তন করার ফলে বিমানের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে এতগুলো ফ্ল্যামিঙ্গোর মৃত্যুতে ক্ষোভ দেখা গিয়েছে দেশটির পরিবেশবাদীদের মধ্যে। প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যের কাছাকাছি অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণকে দায়ী করেছেন তারা। এছাড়া এলাকায় বিদ্যুতের তারগুলিকেও দায়ী করেছেন তারা৷
ঘটনাটি মুম্বাইয়ের উপকূলীয় অঞ্চলের কাছাকাছি নির্মাণ কার্যক্রমকে ঘিরে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই অঞ্চলটি ফ্ল্যামিঙ্গোর জন্য বিখ্যাত আরেকটি এলাকা। পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই এলাকায় বিমানবন্দরের উপস্থিতি এবং সেখানে অবকাঠামো নির্মাণের কারণে ভবিষ্যতে আরও ফ্ল্যামিঙ্গোর মৃত্যু হতে পারে।
প্রতি বছর, হাজার হাজার ফ্ল্যামিঙ্গো নভেম্বরের আশেপাশে মুম্বাইয়ের উপকূলীয় এলাকায় চলে যায়। শহরটির জলাভূমিগুলোকে কয়েক মাসের জন্য আবাসস্থল করে তোলে তারা।