জয়ী প্রার্থীর বিজয় মিছিল থেকে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগ ওঠে নেত্রকোণার পূর্বধলা দ্বিতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থী জুয়েলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতে পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে থাকা আসবাবপত্রসহ ফার্মের কয়েক শ ডিম নষ্ট করে।
স্থানীয় ও পুলিশ জানা গেছে, জেলার পূর্বধলা উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা ভাঙচুরের পর্যন্তও হয়। নির্বাচনের আগে ১৭ মে রাতে মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থীর বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণসহ আনারস প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও সমর্থকদের আহত করার অভিযোগ ওঠে দোয়াত কলম প্রার্থীর পক্ষের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এসব নিয়ে নির্বাচনের মাঠ উত্তপ্তও ছিল। হামলা ভাঙচুরের অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন সহকারী রিটানিং অফিসার মো. খবিরুল আহসান অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের তিনজনকে আটক করে। সেদিন অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। এদিকে সেদিন রাতেই ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে আনারস প্রতীকের সমর্থক আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার (২১ মে) ভোটগ্রহণ শেষে নেত্রকোণার পূর্বধলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য এ টি এম ফয়জুর সিরাজ (মোটরসাইকেল) ৪৬ হাজার ৩২২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। দিনের বেলায় ভোটের সময় মোটরসাইকেল দোয়াত প্রতীকের সমর্থকদের মাঝে মারামারিও হয়। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ৩৬ হাজার ৮ ভোট পান আসাদুজ্জামান নয়ন (দোয়াত কলম)। পরে রাতে অভিযোগ ওঠে বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকের মিছিল থেকে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থক শ্রীপুর গ্রামের সাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আঙ্গুরা খাতুনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে কয়েক শ ডিম ভেঙে ফেলেন।
সাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আঙ্গুরা খাতুন জানান, দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী আসাদুজ্জামান নয়নের সমর্থক হওয়ায় মোটরসাইকেল প্রতীক প্রার্থী এ টি এম ফয়জুর সিরাজ জুয়েলের (মোটরসাইকেল) বিজয় খবরের পর গ্রামে আনন্দ মিছিল বের করেন প্রার্থীর সমর্থকেরা। এ সময় মিছিল থেকে সাইদুল ইসলামের ফার্মে হামলা চালিয়ে মালামাল ভাঙচুরসহ লুটপাট চালানো হয়। সেই সঙ্গে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে এলাকাবাসী মোস্তাকসহ বিজয়ী সমর্থকদের বেশ কয়েকজন সমর্থক জানান, দোয়াত কলমের প্রার্থীর লোকজনই শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিনষ্ট করে গেছে নির্বাচনের আগে থেকে। পরে ফেল করায় নিজেদের ডিম নিজেরা ভেঙে নাটক সাজিয়েছে। এলাকায় কোনও মিছিল বের হতে আমরা শুনিনি। মিছিল হলেও পূর্বধলা সেন্টারে হয়ে থাকতে পারে।
এ ব্যাপারে আসাদুজ্জান বলেন, তার সমর্থক হওয়ায় সাইদুলের ওপর হামলা চালায়। এর বিচার চান তিনি।
এদিকে খবর পেয়ে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নির্বাচনকালীন মোবাইল টিমের ইনচার্জ পুলিশ কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি ক্ষতিয়ে দেখব। ঘটনা সত্য হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।