দুর্নীতির অভিযোগে সালাম মুর্শেদীকে ফিফার জরিমানা

দুর্নীতি এবং আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ফিফার নৈতিকতা কমিটি ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬৯ টাকা।

সাবেক এই ফুটবলার বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদের পাশাপাশি বাফুফের ফিন্যান্স কমিটিরও প্রধান।

বাফুফের ক্রয় ও পরিশোধের প্রক্রিয়াগুলোতে মিথ্যা তথ্য সংবলিত তথ্য, ত্রুটিপূর্ণ ক্রয়াদেশ এবং ভুয়া দলিল দস্তাবেজ পরিবেশনের দায়ে তাকে এই শাস্তি দিয়েছে ফিফা।

এর আগে, গত বছরের এপ্রিলে বাফুফের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয় ফিফা। ১৭ এপ্রিল বিকেলে দেড় ঘণ্টার জরুরি সভা শেষে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনকে মনে হয়েছিল বেশ ম্রিয়মাণ। সেভাবে তিনি কথাও বলেননি। অবশ্য তাকে কথা বলার সুযোগই দেননি সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী। আগ বাড়িয়ে একের পর এক প্রশ্নের উত্তর নিজের মতো করেই দিয়েছিলেন এই সংগঠক। সেদিন গণমাধ্যমকর্মীদের করা প্রশ্নগুলোর সঙ্গে উত্তরের সাদৃশ্য মেলেনি অনেক ক্ষেত্রেই। আর আজ তাকেই আসতে হলো ফিফার জরিমানার আওতায়।

সেদিন সংবাদ সম্মেলনে সোহাগের পথ রুদ্ধ করার কথা জানিয়ে সালাম বলেছিলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছে ফিফার মাধ্যমে। পরে যাতে আর সে কখনো বাফুফেতে কাজ করতে না পারে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সোহাগ কোনো দুর্নীতি করেননি, তবে কিছু কেনাকাটার প্রক্রিয়া ঠিকমতো করেননি বলেই শাস্তি পেয়েছেন।’

বাফুফের ফিন্যান্স কমিটির সভাপতি বলেই সংবাদ সম্মেলনের প্রায় পুরোটা সময় তিনি নিজেকে এবং ফিন্যান্স কমিটিকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করে গেছেন, ‘ফিফার ৫১ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ফিন্যান্স কমিটিকে নিয়ে কোনো কথা বলা হয়নি। শেষ তিন বছরে ফিন্যান্স কমিটির অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে। ফিফা ও এএফসি থেকে তদন্ত করতে যারা এসেছে, তারা আমাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। আমরা নগদ টাকা ব্যবহার কমিয়েছি এখন অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেকের মাধ্যমে লেনদেন হয় শতকরা প্রায় ৯৮ ভাগ। এখানে কোনো দুর্নীতির বিষয় লেখা হয়নি। হয়েছে ক্ষমতার অপব্যাবহার। তাই তার (সোহাগের) ফেরার কোনো সুযোগ আমরা রাখিনি।’

ফিফা ও এএফসি প্রশংসা করে গেলেও সোহাগের নিষেধাজ্ঞার এক বছরের মাথায় ফিন্যান্স কমিটির প্রধান সালাম মুর্শেদীকে জরিমানা করলো আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

সেসময় আরও বলেছিলেন, ‘বাফুফের প্রশাসনিক কাজগুলো চালিয়ে নিতে আমরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ইমরান হোসেন তুষারকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে তিন মাসের জন্য নিয়োগ দিচ্ছি। এই নিয়োগ বড়জোর ছয় মাস। এর মধ্যে নিয়মের মাধ্যমে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেব।’

তবে সেই ‍তুষারকেই বাফুফে পরবর্তীতে করেছে পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদক। সোহাগের চেয়ার এখন সামলাচ্ছেন তিনিই।