গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে শ্যালো মেশিন চালিত নৌকা থেকে পড়ে কামরুজ্জামান মিয়া নামের এক যুবক নিখোঁজ হয়েছে। তাকে উদ্ধারে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি রংপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়েছে। তবুও নিখোঁজের সাড়ে ৬ ঘন্টা পরেও তার মরদেহ উদ্ধার হয়নি।
শুক্রবার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের কাউয়াবাধা নামক এলাকায় কামরুজ্জামান মিয়ার নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ কামরুজ্জামান মিয়ার বাড়ি ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের হরিচন্ডি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। কামরুজজ্জামান মিয়া পেশায় কৃষি কাজ করতেন।
স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হরিচন্ডি ঘাট হতে ৩০/৪০ জন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা বালাসিঘাটে আসছিলো। এ সময় নৌকাটি কাউয়াবাধা এলাকায় পৌঁছালে হঠাও কামরুজ্জামান মিয়া নৌকা থেকে নদীতে পড়ে ডুবে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধারে চেষ্টা চালায়। কিন্তু তার কোন সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ কামরুজ্জামান মিয়ার মামা নুরুন্নবী মিয়া জানান, কামরুজ্জামানের সঙ্গে নৌকায় ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে সে নৌকা থেকে পড়ে নদীতে ডুবে নিখোঁজ হয়। কামরুজ্জামান শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল। গাইবান্ধা শহরে ডাক্তার দেখানোর জন্য নৌকা যোগে বাড়ি থেকে বালাসীঘাটে আসার পথেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নুর মোহাম্মদ। তিনি জানান, নিখোঁজ কামরুজ্জামানকে উদ্ধারে ব্রম্মপুত্র নদে ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ, থানা পুলিশ ও রংপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৪/৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অনুসন্ধান করেও ওই যুবককে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে নদীর পানি ১৫ থেকে ২০ ফুট গভীরতা রয়েছে। সেই সাথে নদীতে অনেক স্রোত রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে স্রোতের পানিতে মরদেহ দূরে ভেসে গেছে। এ কারণে তাকে উদ্ধারে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় বিকেল ৪টার দিকে উদ্ধার অভিযান আপাতত শেষ ঘোষণা করা হয়েছে।