১৯৯ কোটি টাকা পাচার বেসটেক টেলিকমের

বৈদেশিক ইনকামিং কল এনে ১৯৯ কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৯ টাকা মানি লন্ডারিং করেছে বেসটেক টেলিকম লিমিটেড। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করে সংস্থাটি। গতকাল রবিবার দুদকের উপপরিচালক জালাল উদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার আসামি করা হয় বেসটেক টেলিকম লিমিটেডের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েত কবির ও বিটিআরসির উপপরিচালক (অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব) মো. হাসিবুল কবিরকে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গুলশান-১-এর নাভানা টাওয়ারে অবস্থিত বেসটেক টেলিকম লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) অপারেটর। বেসটেক টেলিকমের মাধ্যমে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৯ মাসে ১০১ কোটি ৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৫০ মিনিট কল এসেছে। প্রতি মিনিট কলরেট শূন্য দশমিক ৩০ মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে কলরেটের মূল্য ৩ কোটি ৩ লাখ ১৯ হাজার ৫৯৪ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ২৩৪ কোটি ৭২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮ টাকা। আইন অনুযায়ী ইনকামিং কলের বিপরীতে রেমিট্যান্স হিসাবে এই পরিমাণ টাকা বাংলাদেশে আনার কথা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির গুলশানের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক শাখায় থাকা হিসাব যাচাই করে দেখা যায়, ওই সময়ে ৩ কোটি ৩ লাখ ১৯ হাজার ৫৯৪ মার্কিন ডলারের স্থলে ৪৬ লাখ ৮ হাজার ৪৬০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫ কোটি ৫৭ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩৯ টাকা এসেছে। বাকি ১৯৯ কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৯ টাকা আসেনি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই সময়ে বেসটেক টেলিকমের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েত কবির বাংলাদেশের স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও ২ কোটি ৫৭ লাখ ১১ হাজার ১৪৩ ডলার বা বাংলাদেশি ১৯৯ কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৯ টাকা মানি লন্ডারিং বা পাচার করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে বিটিআরসির মো. হাসিবুল কবির জড়িত ছিলেন। দুদকের অনুসন্ধানে অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২-এর ৪(২)(৩) ধারায় মামলাটি করা হয়।