বাংলাদেশের হারের জন্য হাথুরুসিংহের দায় দেখেন প্রিন্স

যুক্তরাষ্ট্রকে ১৯৯৪ সালে ওয়ানডেতে যে ম্যাচে হারিয়েছিল বাংলাদেশ, সেই ম্যাচে লাল সবুজদের একমাত্র পেসার ছিলেন গোলাম নওশের প্রিন্স। ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে হয়েছিলেন বিসিবির নির্বাচক। তবে ২০০৭ সালে স্থায়ী হন যুক্তরাষ্ট্রে। ১৭ বছর ধরে সেখানে বসবাস করা প্রিন্স এখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট অপারেন্সের সদস্য। 

সেখানে ‘কোচ গোলাম’ নামেই বেশি পরিচিত প্রিন্স তার শহর হিউস্টনের প্রেইরি ভিউ স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে থেকেই দেখেছেন বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র তিন টি–টোয়েন্টির সিরিজ। বাংলাদেশের সিরিজ হারের জন্য তিনি দায় দেখছেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের।

যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট বোর্ডের একজন হিসেবে গোলাম নওশের অবশ্যই আনন্দিত যুক্তরাষ্ট্র সিরিজ জেতায়। একই সঙ্গে আছে দীর্ঘশ্বাসও। জাতীয় একটি দৈনিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ হারলে তো খারাপ লাগেই। আমি ধারণা করেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্র দল হয়তো একটা অঘটন ঘটাবে, একটা ম্যাচ তারা জিতবে। কিন্তু সিরিজ জিতে যাবে, এতটা ভাবিনি।’

হিউস্টনের উইকেটে অনভ্যস্ততার কারণে প্রথম দিনের অনুশীলনে ব্যাটিং ভালো না–ই হতে পারে। ২১ মে সিরিজ শুরু, তার আগে আরেকটা দিন তো হবে অনুশীলন। গোলাম নওশের ভেবেছিলেন, দ্বিতীয় দিনের অনুশীলনে হয়তো উইকেটটাকে আরেকটু বুঝতে পারবেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু পরদিন ২০ মে মাঠে গিয়ে বিস্মিতই নাকি হয়েছেন তিনি, ‘আগের দিন কোচ, খেলোয়াড়েরা যখন দেখলেন বল এখানে থেমে আসছে, আমি ভেবেছিলাম পরদিন আরও বেশি অনুশীলন করে তারা উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করবে। অথচ পরদিন মাঠে গিয়ে দেখি, অনেক ক্রিকেটারই অনুশীলনে আসেনি, কোচকেও চোখে পড়েনি আমার। সেদিন নাকি অনুশীলনটা ঐচ্ছিক করে দিয়েছিলেন কোচ।’

নিজের বিস্ময় গোপন না করে প্রিন্স বলেন, ‘আমি অবাকই হয়েছি তাতে। বাংলাদেশ দল এখানে আগে এসেছে তো অনুশীলন করে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। যুক্তরাষ্ট্র সিরিজের আয়োজনও সে জন্য। অথচ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সিরিজ শুরুর আগের দিন দলের সবাই অনুশীলন করল না! যার প্রভাব আমি ম্যাচেও দেখেছি। শেষ ম্যাচের আগেও ঐচ্ছিক অনুশীলন ছিল।’ 

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রস্তুতির উদ্দেশ্যেই যেহেতু এখানে আগে আসা, সেই সুযোগ ক্রিকেটারদের পুরোপুরি কাজে লাগানো উচিত ছিল। কোচের উচিত ছিল সেভাবেই সবকিছু ঠিক করা।’

প্রিন্সের বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্র সিরিজের হতাশা বাংলাদেশ বিশ্বকাপে কাটিয়ে উঠবে। তবে সে জন্য কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেখেন তিনি, ‘আমি ভুলও হতে পারি, কাউকে দোষও দিচ্ছি না। তবে এই কদিনে দলটাকে আমার একটু বিচ্ছিন্নই মনে হয়েছে। বিশেষ করে কোচ যেন একটু আলাদা...। তার বোধ হয় আরেকটু সক্রিয় হওয়া উচিত।’

বিশ্বকাপের আগে আগামীকাল ডালাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচও ডালাসে। এই দুই ম্যাচ নিয়ে আশার কথা শোনালেন গোলাম নওশের, ‘ডালাসের উইকেটে বল অনেক ভালো ব্যাটে আসবে। আশা করি, হিউস্টনের মতো সমস্যা ওখানে হবে না।’ সঙ্গে অবশ্য আরেকবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের খারাপ খেলা নতুন কিছু নয়। তবে এই উপলব্ধিটা কোচ–ক্রিকেটারদের থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ কেন সিরিজ হারল, আগে সেটার উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।’