ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ঝালকাঠির তিন শতধিক গ্রাম প্লাবিত

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিশখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৭ থেকে ৮ ফুট বেড়েছে।  যা বিপদসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রভাহিত হচ্ছে। এর ফলে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এমনকি জেলা শহরের অলিগলির বাসা-বাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ  করেছে। 

বেশ কয়েকটি প্রধান সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জেলার ৪ উপজেলার প্রায় তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে এসব এলাকার লক্ষাধিক মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া তলিয়ে গেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসা।

সোমবার (২৭ মে) সকাল থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও প্রবল বেগে ঝড়ো হাওয়া বইছে। জেলার চার উপজেলার নদী পাড়ের প্রায় ৩ হাজার মানুষ তাদের গবাদিপশু নিয়ে গত রাত থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মাছের ঘের, পুকুর ও জলাশয়, ফসলের ক্ষেত এবং পানের বরজ তলিয়ে গেছে। প্রবল বাতাসের আঞ্চলিক মহাসড়কে পাশে থাকা গাছ উপড়ে পরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুতের খুটি উপড়ে গত রাত থেকে জেলা জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় রান্নাবান্নাসহ গৃহস্থলীর কাজ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সৈয়দ খান, আলমগীর হোসেন, মিরাজ হোসেন ও নান্নু হাওলাদার জানায়, সকাল থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে আমাদের বসত ঘরসহ গোয়াল ঘর তলিয়ে গেছে। সকালে আমরা পরিবার ও গবাদি পশু নিয়ে স্থানীয় একটি সাইক্লোন সেন্টারে উঠেছি। তারা বলেন, সিডর, আইলা, বুলবুল, আম্ফানের মতো এর আগে বড় বন্যায়ও এবারের মত এত পানি ওঠেনি। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে পুরো গ্রামের ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যাবে।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ফারহান গুল নিঝুম বলেন, জেলার ৮৮৫ টি আশ্রয় কেন্দ্র ও ৬২টি সাইক্লোন সেল্টারে বন্যা দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় নেয়া মানুষ ও বন্যা দুর্গতদের জন্য নগদ ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে।  পাশাপাশি শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।