ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করতে করতে কলকাতার বিভিন্ন স্থানে একের পর এক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এমপি আনারের মরদেহ উদ্ধার, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলা তদন্ত করতে গতকাল রবিবার (২৬ মে) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশের তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কলকাতায় গেছেন।
গ্রেপ্তার কসাই জিহাদ হাওলাদারকে নিয়ে সোমবার (২৭ মে) কলকাতার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশিতে নামেন হারুন। এ সময় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। সাংবাদিকদের ডিবি হারুন বলেন, আমরা দুইবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্ত জিহাদকে টিআই প্যারেডের জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে গেছি। আজ আমরা জিহাদকে নিয়ে ফের এই বাগজোলা খালে যেখানে লাশ ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ, সেখানে এসেছি। আমাদের আশা স্বল্প সময়ের মধ্যে লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করতে পারব।
তিনি আরও বলেন, এটা এমন একটা ঘটনা যে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আমি এটা মেনে নিতে পারছি না। একটা সভ্য সমাজে এত বড় নিষ্ঠুর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে না। আমাদের প্রাণবন্ত সংসদ এমপি আনারকে হত্যা করে তার লাশ আলাদা করে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা মাফিক গুম করা হয়।
আনারের বিরুদ্ধে চোরাচালানের অর্থ গায়েব করার অভিযোগ ওঠায় বিষয়গুলো নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ২০১৬ সালে ১ হাজার ২০ কোটি টাকা মূল্যের সোনা ও হীরার একটি চালান গায়েব করা নিয়ে দুই ব্যবসায়ীর সঙ্গে আনারের বিরোধকে তদন্তে প্রাধ্যন্য দেওয়া হচ্ছে। ওই বিরোধের জের ধরে আখতারুজ্জামান শাহীনকে দিয়ে মূল পরিকল্পনাকারীরা সুযোগ নিয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থাগুলো ধারণা করছে। বাংলাদেশের পুলিশের পাশাপাশি কলকাতার সিআইডিও চোরাচালানের বিষয়গুলোও আমলে নিয়ে তদন্ত করছে।