ঝিনাইদহ-৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ১৫দিন পার হলেও কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার কারণ অজানা। সুনিদিষ্ট কিছু বিষয় সামনে রেখে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কাজ চালিয়ে গেলেও কূলকিনারায় আসতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তবে হত্যাকাণ্ডের নানা বিষয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হচ্ছে। এ অবস্থার ভেতরেই স্থানীয় রাজনীতিতে সুভাষের নাম আলেচনায় উঠে এসেছে। সুভাষকে ঘিরে ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষের ভেতরে কৌতুহল কাজ করছে।
স্থানীয় নেতৃস্থানীয় ও প্রয়াত এমপির ঘনিষ্টজনরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সুভাষকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা গেলে এ ঘটনার আরও কিছু জট খুলতে পারে। সুভাষ নামে এমপির বন্ধু কোনো অজানা তথ্য জানতে পারেন। যা তদন্তের স্বার্থে কাজে আসতে পারে। তদন্তও নতুন মোড় নিতে পারে। এমপির ঘনিষ্টজনরা বলেন, এমপি আনারের ঘনিষ্ট এক বন্ধুর কথা তারা জানেন। কলকাতায় সেই বন্ধুর বাসায় যাতায়াতও ছিল এমপি আনারের। এর আগে আনার যখন বর্ডার পার হয়ে কলকাতায় যান সেবারও সুভাষের বাসায় গিয়েছিলেন বলে জানান ঝিনাইদহে এমপির ঘনিষ্ঠ দুইজন।
কে এই সুভাষ জানতে গেলে উঠে আসে তিনি প্রয়াত এমপি আনারের খুব ঘনিষ্ট বন্ধু। ব্যবসায়িক সম্পর্কও রয়েছে সুভাষের সঙ্গে আনারের। সুভাষ থাকেন কলকাতার মাইজদায়। সেখানে প্রভাব ও প্রতাপশালী এ সুভাষ। প্রয়াত এমপির সঙ্গে ঘনিষ্টতা বাড়ে কলকাতায় সুভাষের শক্ত অবস্থানের কারণেও। বাংলাদেশে জন্মালেও কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন আনারের বন্ধু সুভাষ। স্বাধীনতার আগে বা পরে কোনো একসময় সুভাষের পরিবার বাংলাদেশ ছেড়ে কলকাতায় চলে যান। সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন তারা। ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে সুভাষের সঙ্গে আনারের ঘনিষ্টতা অনেক বেশি হয়। মাইজদার বাড়িতে আনার একাধিকবার গিয়েছেন বলেও নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আনারের ব্যক্তিগত সহকারী আবদুর রউফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সুভাষ নামে এক বন্ধু স্যারের রয়েছে। তবে আমি তাকে কখনো দেখিনি। তিনি বলেন, সুভাষ দা দাদা নামেই আমাদের কাছে বেশি পরিচিত। স্যারের ঘনিষ্টরা তাকে দাদা নামেই বেশি চেনেন।
বন্ধুত্বের সম্পর্ক কী ২০০৩ সাল থেকে এমন প্রশ্নে রউফ বলেন, মনে হয় তারও আগে। আমি আসলে বেশি কিছু জানিনি। আমি দাদা হিসাবে চিনি। সুভাষ নামে বন্ধু আছেন স্যারের এটাও জানি।