বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচ জিততে চান জাকের আলী

টি-টোয়েন্টি দিয়ে জাকের আলী অনিকের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলার শুরু। হ্যাংজু এশিয়ান গেমসে খেলেছিলেন। তবে জাতীয় দলে অভিষেক হয় গেল মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে।

আছেন বাংলাদেশের ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে। আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ফেসবুক পেইজে গ্রিন রেড স্টোরিতে প্রকাশ করেছে জাকেরের সাক্ষাৎকার।

জাকের জানান তার ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহটা ভালোভাবে জন্মায় ২০০৭ থেকে। '২০০৭ থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভালোভাবে ফলো করি। তখন থেকেই ইচ্ছে ছিল বাংলাদেশের হয়ে ক্রিকেট খেলবো। ২০০৭ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপ থেকে আমি ক্রিকেটটা ভালোভাবে বুঝি। তখন থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা।'

বিশ্বকাপ দলে আছেন জানার পর থেকেই প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন জাকের। 'দেশের হয়ে খেলাটা সবচেয়ে বড় ব্যাপার। আর সেটি যদি বিশ্বকাপের মঞ্চে হয় আরও ভালো। যখন থেকেই জানি আমি আছি (বিশ্বকাপ দলে) ম্যাচ বাই ম্যাচ দেখা শুরু করেছি, যে কার সঙ্গে কিভাবে খেলতে হবে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে কৌশল কি রকম হওয়া উচিত।'

জাকের মনে করেন দেশের জন্য ভালো কিছু করার তাগিদটা থাকতে হবে। 'দল হিসেবে আমি চাইবো আমরা প্রত্যেকটা ম্যাচ ধরে ধরে ভালো পারফরম্যান্স করবো, জিতবো। নিজের দেশের জন্য বড় কিছু করবো। সব সময় মাথায় আছে যে দেশের জন্য ভালো কিছু করবো।'

সিলেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জাতীয় দলে অভিষেক ম্যাচে ৩৪ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। বাংলাদেশ দল তাকে যেভাবে স্বাগত জানিয়েছে সেটি মনে রেখেছেন জাকের। 'আমাকে যেভাবে দলে স্বাগত জানানো হয়েছে সেটা আমার কাছে খুব স্পেশাল ছিল।'

জাকেরের মা গর্বিত তার জাতীয় দলে খেলা নিয়ে। সব সময় জাকেরকে বলতেন কবে জাতীয় দলে খেলবেন। সেই গল্পও শুনিয়েছেন। 'আমার আম্মার স্বপ্ন ছিল যে আমি দেশের হয়ে খেলবো। সব সময় বলতো যে, তোর তামিম ভাই, সাকিব ভাই, মাশরাফী ভাইদের দলে কবে তুই খেলবি। এটাই তার স্বপ্ন ছিল। আম্মা খুব গর্ব বোধ করেন। আব্বা যখন ছিলেন মাঠে বসে থাকতেন। আব্বা যখন থাকতো না আমার বোন নিয়ে যেত।'

বড় ভাইকে দেখে ক্রিকেটার হওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। 'সবচেয়ে বড় কথা আমার বড় ভাইকে দেখে আমার ক্রিকেট খেলার প্রতি আগ্রহ আসে। যখন আমি বাংলাদেশের ক্রিকেট দেখা শুরু করি, ওই সময় আমার ভাইও ক্রিকেট খেলতো। দুই মিলে আমার আরও সাপোর্টটা ভালো এসেছে।'

জাকের মনে করেন তার জীবন বদলে গেছে বিকেএসপিতে এসে। '২০১০ এ বিকেএসপিতে ট্রায়াল দেই। বিকেএসপিতে আসার পর স্বপ্নগুলা বড় হয়। শুরুতে স্বপ্ন এতো বড় ছিল না। যখন এসে বড় ভাইদের দেখলাম, কাছ থেকে দেখলাম আসলে স্বপ্নগুলা বড় করতে হবে। যদি আমি হবিগঞ্জে বসে থাকতাম আমার কাছে মনে হয় না আমি এতদূর আসতে পারতাম।'

বিশ্বকাপে ভালো করার আশাও করেছেন হার্ড হিটার এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। 'অবশ্যই ইচ্ছে থাকবে আগে যা অর্জন করতে পারি নাই এ বছর যেন এমন কিছুই অর্জন করতে পারি।'