ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন জ্যোতিরা

আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

টি-টোয়েন্টি সংস্করণে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অতীত রেকর্ড খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। বোলাররা প্রায়ই আলো ছড়ালেও, ব্যাটারদের বড় রান করতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে বারবার। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে সর্বশেষ তিনটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজে কোনো জয়ের মুখ দেখেনি দল। তবে এই জয়হীন যাত্রাকে বোঝা নয়, বরং ইতিহাস বদলানোর এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আজ রবিবার মিরপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের এই দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানান টাইগ্রেস অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে নিজেদের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আজ দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এবং পরদিন সকালে— দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে স্কটল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। সেখানে স্বাগতিক স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবেন জ্যোতিরা।

বিশ্বকাপের ভেন্যু ইংল্যান্ড হলেও তার আগে স্কটল্যান্ডের এই সিরিজটিকে কন্ডিশনের সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ার দারুণ সুযোগ মনে করছেন অধিনায়ক। জ্যোতি বলেন, 'স্কটল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের কন্ডিশন, আবহাওয়া ও উইকেট প্রায় একই রকম থাকে। এই সিরিজ আমাদের ইংল্যান্ডে খেলার জন্য অনেক বেশি সাহায্য করবে। যদি আমরা সিরিজটা জিততে পারি, তবে মূল টুর্নামেন্টের আগে তা দলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।'

বাংলাদেশের মূল দুশ্চিন্তা ব্যাটিংয়ের স্ট্রাইক রেট ও রান তোলার ধীরগতি নিয়ে। তবে প্রধান কোচ সারওয়ার ইমরান ব্যাটারদের নিয়ে আশাবাদী। তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে ব্যাটারদের ডাউন দ্য উইকেটে খেলা এবং বাউন্সি উইকেটে অনুশীলনের মাধ্যমে স্ট্রাইক রেট বাড়ানোর বিশেষ কাজ করা হয়েছে। কোচ আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী খেললে সব ব্যাটারের স্ট্রাইক রেটই ১০০-এর ওপরে থাকবে।

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নেদারল্যান্ডস। কঠিন গ্রুপ হলেও অন্তত তিনটি ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়তে চান জ্যোতি। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডস ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের তীব্র আশার পাশাপাশি ভারতকে অতীতে হারানোর অভিজ্ঞতা থেকেও ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

তবে কন্ডিশন পেস-সহায়ক হলেও বাংলাদেশ দলে রয়েছে পেসার সংকট। দলে মাত্র দুজন বিশেষজ্ঞ পেসার নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কোচ সারওয়ার ইমরান অবশ্য এ নিয়ে চিন্তিত নন। তিনি স্পিন বিভাগ, ফিল্ডিং এবং মারুফা আক্তারের শুরুর স্পেলের ওপরই ভরসা রাখছেন। অন্যদিকে স্পিন বিভাগের অন্যতম মূল কাণ্ডারি নাহিদা আক্তারও যেকোনো পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ নিতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

আগামী ১৪ জুন বার্মিংহামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। তার আগে স্কটল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজ ও দুটি অফিশিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচই হবে নিগার সুলতানার দলের জন্য নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত মঞ্চ।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত