দুর্যোগ প্রতিরোধে সরকার কাজ করে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত, উন্নত একটি দেশ গড়তে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন। সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। উন্নত একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েছিলেন। কিন্তু ৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীরা বাংলাদেশের উন্নয়নকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) কলাপাড়া সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজ মাঠে ঘূর্ণিঝড় রিমাল পরবর্তী দুর্যোগকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালে শুরু থেকেই সরকার ছিল তৎপর। ফলে এত বড় জলোচ্ছ্বাস আর দীর্ঘ সময় ধরে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে যে ভয়ানক ক্ষতির শঙ্কা ছিল তা হয়নি। আমরা ইতোমধ্যেই ভেঙে যাওয়া রাস্তাঘাট পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু করেছি। ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ঘর নির্মাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। খাবার পৌঁছে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, দুর্যোগ বাংলাদেশের নিত্য সঙ্গী। এ অঞ্চলের মানুষ দুর্যোগের সঙ্গে সংগ্রাম করে জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রেখেছে। দুর্যোগ প্রতিরোধে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দুর্যোগ সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনা করছে।

কলাপাড়া উন্নয়নের কথা তুলে দরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় দক্ষিণাঞ্চল ছিল অবহেলিত। আমরা সরকার গঠনের পর দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে হাত দিয়েছি। এখানে গভীর সমুদ্রবন্দর পায়রা নির্মাণ করেছি। ১৩২০ মেঘাওয়াট পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছি। ত্রিমাত্রিক শক্তির শেরে-বাংলা নৌ-ঘাঁটি স্থাপন করেছি। ইপিজেড নির্মাণের কাজ চলছে। কুয়াকাটা পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে কাজ করছি। এসব উন্নয়ন কাজে ক্ষতিগ্রস্তদের আধুনিক সুবিধা সম্বলিত দুর্যোগ সহনীয় ঘর দিয়েছি। আমি ঘুর দেখেছি দুর্যোগে এসব ঘরের কোনো ক্ষতি হয়নি।

কলাপাড়ায় এসে অতীত স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে কুয়াকাটা যেতে ভোগান্তির শেষ ছিল না। নদী পারাপারের কারণে অনেক সময় যাওয়া যেত না। বরিশাল থেকে কলাপাড়ায় আসার পথে সকল নদীর ওপর ৫টি সেতু নির্মাণ করেছি। এখন বরিশাল থেকে কলাপাড়া আসতে মাত্র ২ ঘণ্টা লাগে। পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে। ঢাকা থেকে এখন ৫ ঘণ্টায় কলারপাড়া আসা যায়।

কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়ির সহসভাপতি নির্মল নন্দীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মাহবুবুর রহমান, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক, সাবেক চিফ হুইপ ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পদক আফজাল হোসেন, কলাপাড়া পৌর মেয়র বিপুল হাওলাদারসহ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি, সম্পাদকসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।