মারিয়াহীন দিনে মনিকা কি পারবেন বাংলাদেশের মাঝমাঠ সামলাতে

গেল আট বছরে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের মধ্যমণি হয়েছিলেন মারিয়া মান্দা ও মনিকা চাকমা। এই দুই মিডফিল্ডারের অসাধারণ বোঝাপড়ায় বাংলাদেশ দলের মিডফিল্ড হয়ে উঠেছিল দুর্দান্ত। তাদের একসঙ্গে মাঠে থাকা মানেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ লাল-সবুজের দখলে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হাই-লাইন ডিফেন্সেও এই দুজন ভীষণ কার্যকর। আর আক্রমণভাগে সাবিনা, তহুরা, কৃষ্ণাদের বলের জোগান দিতে এদের জুড়ি নেই। 

অথচ চোটের অজুহাতে ঘরের মাঠে চীনা তাইপের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে রাখা হয়নি মারিয়াকে। ব্রিটিশ কোচ জেমস বাটলারের যুক্তিমারিয়া ম্যাচ ফিট নন। তবে ভেতরের খবর, মারিয়ার গোড়ালির হালকা চোট অনেকটাই সেরে গেছে। চাইলেই তাকে রাখা যেত দলে। মারিয়ার মাঠে না থাকা মানে মনিকার অকার্যকর হয়ে পড়া। আর মাঝমাঠ অকার্যকর হয়ে গেলে ১০০ ধাপ এগিয়ে থাকা চীনা তাইপের বিপক্ষে ভালো কিছুর আশা করাই বোকামি।

প্রশ্ন উঠতে পারে, একজন খেলোয়াড় নেই বলে এত আলোচনা কেন? এই আলোচনাটা ভীষণ যৌক্তিক। মারিয়ার বিকল্প শুধু নয়, তার কাছাকাছি মানের কোনো মিডফিল্ডার এখনো মেলেনি বাংলাদেশের। দুবছর আগে সাফ জয়ে মারিয়া-মনিকা রসায়ন দারুণ জমেছিল। সেই আসরে অসাধারণ খেলা ফরোয়ার্ড কৃষ্ণারানী সরকারকেও বাটলার রাখেননি অক্টোবরে সাফকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন পর হতে যাওয়া এই দুটি ম্যাচে।

মারিয়ার না থাকাটা দলের জন্য বড় ক্ষতি দাবি করেছেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, ‘মারিয়ার শূন্যতা পূরণ করার মতো কেউ নেই। ও দলের জন্য ভীষণ কার্যকরী। ওর না থাকাটা ভোগাবে আমাদের।’ 

অনেক দিন পরপর ম্যাচ খেলার সুযোগ পান মেয়েরা। তাই তো সাফ শিরোপা ধরে রাখার জন্য আসছে চার মাসে আরও ম্যাচ খেলার সুযোগ চান সদ্যসমাপ্ত নারী ফুটবল লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া সাবিনা, ‘সাফের কথা মাথায় রেখে আমাদের যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলতে হবে। এখানে হারজিত বড় নয়। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত খেলতে পারলে আমাদের ভালো প্রস্তুতি হবে।'

এখানেই বড় ঘাটতি বাংলাদেশের। সাফ জয়ের পর ২০ মাসে খুব বেশি খেলার সুযোগ মেলেনি তাদের। অথচ ভারত, নেপাল নিয়মিতই দেশে-বিদেশে খেলছে। এই যেমন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজের পর সাবিনাদের বসে থাকতে হলো পাক্কা পাঁচ মাসেরও বেশি সময়। এর মধ্যেই কোচ পদে রদবদল হয়েছে। সাইফুল বারীর জায়গা নিয়েছেন বাটলার। তিন মাসে নিজের মতো করে খেলোয়াড়দের অভ্যস্ত করার চেষ্টা করেছেন। কতটা পেরেছেন সেটা এই দুই ম্যাচেই বোঝা যাবে। 

মারিয়াকে না রাখা প্রসঙ্গে এই কোচের যুক্তি, ‘আমি চাই দলের সবাই ভীষণ লড়াকু রূপে থাকুক। মারিয়া ২৮ মে চোট পেয়েছিল। তাকে পরীক্ষা করে ফিজিওরা বলেছে ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। তাই তাকে রাখা হয়নি।’ 

এদিকে ঘরের মাঠে গত বছর ৪ ডিসেম্বর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। ১ ও ৪ ডিসেম্বর র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরকে ঘরের মাঠে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। জিতেছিল যথাক্রমে ৩-০ ও ৮-০ ব্যবধানে।

এবারের প্রতিপক্ষ নিয়ে অবশ্য অতটা আশা করা ঠিক হবে না। একে তো চীনা তাইপে (৪০তম) র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের (১৪০তম) চেয়ে পুরো ১০০ ধাপ এগিয়ে, তার ওপর গত বছর এশিয়ান গেমসে তারা ভারত ও থাইল্যান্ডকে হারিয়েছিল। ২৮ মে ঢাকায় পা রাখা চীনা তাইপে বুধবার ঘাম ঝরিয়েছে কমলাপুরের টার্ফে। তবে গতকাল তারা কিংস অ্যারেনায় করেছে অনুশীলন। 

তার আগে সংবাদ সম্মেলনে কোচ চ্যাং মিন বলেন, ‘আমরা র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে আছি ঠিক। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে কারণ এখানকার কন্ডিশন আমাদের জন্য অপরিচিত।’

বাংলাদেশ-চীনা তাইপে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি আজ সন্ধ্যা ৫:৪৫ থেকে কিংস অ্যারেনায় শুরু হবে।