উচ্চ মূল্যস্ফীতিতেও বাড়বে না করমুক্ত আয়সীমা

অধিকাংশ পণ্য কিংবা পরিষেবার মূল্যবৃদ্ধির জন্য এখন আর জাতীয় বাজেটের ওপর নির্ভর করতে হয় না। সরকার বছরে একাধিকবার বিভিন্ন পরিষেবার মূল্য বাড়ানোর ক্ষমতা রাখে। ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজার কিংবা টাকার অবমূল্যায়নের অজুহাতে বছরের যেকোনো সময় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন। তারপরও জাতীয় বাজেট ঘোষণার সময়ে আতঙ্কে থাকেন দেশের মানুষ। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে বাজেটকে কেন্দ্র করে আরেক দফা মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কায় পড়েছেন তারা। বাড়তি বাজেটের ব্যয় সামলানোর বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ঘাড়েই চাপতে যাচ্ছে।

পরিচালন ব্যয়, উন্নয়ন ও ঋণ বাড়ায় দেশের বাজেটের আকার প্রতি বছরই বড় হচ্ছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ঘাটতি সমন্বয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণের ঘাড়েই চাপছে। আপাতত ঋণ করে ঘাটতি মেটানো হলেও ঋণের দায় বছর বছর বাড়ছে। বিশাল বাজেটের কারণে সরকারের ওপর আয় বাড়ানোর চাপও বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, যা আগের বছরের চেয়ে সাড়ে ৪ শতাংশ বেশি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই জুনের প্রথম সপ্তাহে বিশাল এই বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। প্রতি বছরের মতো এবারও আয় বাড়াতে বাজেটে আয়করের মতো প্রত্যক্ষ করের চেয়ে পরোক্ষ করের ওপরই সরকার বেশি নির্ভর করছে। ফলে আমদানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর, ভ্যাটের আওতা আরও বাড়বে। অর্থনৈতিক মন্দার এ সময়ে জনসাধারণকে আরও বেশি মূল্যে পণ্য কিনতে হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির পারদ আরও চড়বে।

এবারের বাজেট প্রণয়নে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের পরামর্শ মেনে কিছু ক্ষেত্রে করছাড় এবং অব্যাহতি কমানো হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছরের বেশি সময়ে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে।

প্রায় ২৬ মাস ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। চলতি অর্থবছরেও নানা উদ্যোগের পরও সিন্ডিকেটের কাছে হার মানতে হয়েছে সরকার ও সাধারণ মানুষকে। আয়ের বেশিরভাগই খরচ করতে হচ্ছে উচ্চমূল্যে পণ্য কিনতে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আসন্ন বাজেটে আমদানি করা ৩৩৫টি নিত্যপণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কছাড় সুবিধা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মানে হচ্ছে, কোনো পণ্যই আর শুল্কমুক্ত থাকছে না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মানুষের মৌলিক প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাতের অন্তত ৩৩৫ আমদানি পণ্যে ন্যূনতম ১ শতাংশ হারে শুল্ক বসানো হচ্ছে। এই তালিকায় রয়েছে অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, চাল, গম, ভুট্টা, সরিষা, সানফ্লাওয়ারসহ বিভিন্ন শাকসবজির বীজ, পরিশোধিত সয়াবিন ও পাম অয়েল, ভিটামিন, পেনিসিলিন, ইনস্যুলিন, ওষুধ ও শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, সার এবং বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরণ। আইএমএফের ঋণের শর্ত বাস্তবায়নে এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে এনবিআর। ফলে পণ্যমূল্য বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ ২০২২ সালের জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এর পরের মাস থেকে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৯ শতাংশের ওপরে আছে। সুদহার বাড়ানোসহ কোনো পদক্ষেপেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। যদিও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে আগামী বাজেটের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আগামী অর্থবছর কীভাবে মূল্যস্ফীতি কমানো যায়, সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে ইতিমধ্যেই   ঢাকা ওয়াসা পানির দাম ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। আইএমএফের শর্তানুযায়ী ভর্তুকি প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে খুব শিগগির গ্যাস-বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হবে। আর আন্তর্জাতিক মূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে। এসব পরিষেবার মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে সবকিছুতে। পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন খাতে আগের চেয়ে খরচ বাড়ায় সবকিছুর দামই বাড়ছে।

মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর জন্য কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি নিয়েছে। সারা বিশ্বেই টাকার সরবরাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আমরাও সে পথেই হাঁটছি। তবে পাশাপাশি আমাদের যা করার দরকার, রাজস্ব আয় বাড়ানো আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যা যা করার দরকার, বিশেষ করে করজাল বাড়িয়ে অন্য উদ্যোগেও নজর দিচ্ছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়াতে হলে রপ্তানি আয় বাড়াতে হবে। এবারের বাজেটে সার্বিকভাবে উন্নয়নকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সার্বিকভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে আমাদের।’

উচ্চ মূল্যস্ফীতিতেও বাড়বে না করমুক্ত আয়সীমা

বাজেট পেশের সময় এলে কর কত হবে, প্রত্যেক সচেতন নাগরিকই জানতে উদগ্রিব থাকেন। বর্তমানে মানুষের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা; অর্থাৎ কেউ যদি বছরে সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি আয় করেন, তাকে কর দিতে হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। দুই বছর ধরে দেশের মূল্যস্ফীতি প্রায় ২ অঙ্কের ঘরে। আবার মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি কম টানা ২৭ মাস। অর্থনীতির পরিভাষায় মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি কম হলে সেটি অর্থনীতির বড় সংকটের ইঙ্গিতই করে। মূল্যস্ফীতির এই বাজারে সংসার খরচ মিটিয়ে সরকারকে কর দেওয়া যেকোনো নাগরিকের পক্ষে শুধু কঠিনই নয়, প্রায় অসম্ভবই বটে।

মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি সত্ত্বেও রাজস্ব বাড়ানোর তাগিদ থেকে আগামী বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ছে না।

এদিকে রাজস্ব বাড়াতে বিত্তশালীদের কাছ থেকে বাড়তি কর আদায়ের ছক কষছে এনবিআর। বর্তমানে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ রয়েছে। বছরে সাড়ে ১৬ লাখ টাকার বেশি আয় থাকলে ২৫ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। এটিকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি করের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ থাকবে।

কালোটাকায় ঢালাও ছাড়

আগামী অর্থবছরে আবারও কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে বিনা প্রশ্নে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ আসতে পারে। এই সুযোগ দেওয়া হতে পারে এক বছরের জন্য।

দুই বছর আগে ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তেমন সাড়া না পাওয়ায় পরে এই সুযোগ বাতিল করা হয়। এর পরের বছর দেশ থেকে পাচার করা টাকা ফেরত আনার সুযোগ দেওয়া হলেও কেউ এই সুযোগ নেয়নি। এক বছর বিরতির পর আগামী অর্থবছরে আবারও ঢালাওভাবে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে অপ্রদর্শিত প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা ঘোষণায় এসেছে, অর্থাৎ সাদা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ও এরশাদের ১৫ বছরে মাত্র ৯৫ কোটি টাকা সাদা হয়। আওয়ামী লীগের শেষ তিন মেয়াদে (২০০৯-২৩) প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা বৈধ হয়েছে। ২০০৭ থেকে ২০০৮ সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকার কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী টাস্কফোর্স গঠন করেছিল। ওই সময়ে সর্বোচ্চ ৩২ হাজার করদাতা কালোটাকা সাদা করেছিলেন।

ভ্যাট বসবে মেট্রোরেলে

ঢাকাবাসীর সবচেয়ে নিরাপদ ও জনপ্রিয় বাহন হয়ে দাঁড়িয়েছে মেট্রোরেল। ভাড়া তুলনামূলক বেশি হলেও যাত্রীদের চাপ দেখে এ সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসাচ্ছে এনবিআর; অর্থাৎ ১০০ টাকা মেট্রো ভাড়ায় যাত্রীদের দিতে হবে আরও ১৫ টাকা।

সূত্র বলছে, মেট্রোরেলের সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ না করার আবেদন জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সচিব। তবে সেই আবেদনে সাড়া না দিয়ে ভ্যাট আরোপে অনড় অবস্থানে রয়েছে এনবিআর। তারা বলছে, ১ জুলাই থেকেই ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসবে।

ধাপে ধাপে বাড়ছে ভ্যাট

বর্তমানে বিভিন্ন পণ্য ও সেবাভেদে ২, ৩, ৫, ৭.৫, ১০ ও ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করে এনবিআর। অন্যদিকে ভ্যাটের অভিন্ন হারের মতো কয়েকটি খাতে ভ্যাট অব্যাহতিও ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে; বিশেষ করে মোবাইলে কথা বলতে গিয়ে এবারও বাড়তি খরচ করতে হতে পারে গ্রাহকদের। মোবাইলে ১০০ টাকা রিচার্জ করলে ৭৩ টাকার কথা বলতে পারেন। বাকি ২৭ টাকা ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক হিসেবে কেটে নেয় মোবাইল অপারেটরগুলো। প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল সেবার ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হলে ভোক্তা ৬৯ দশমিক ৩৫ টাকার কথা বলতে পারবেন।

চার হাজার কোটি টাকা বাড়বে ভর্তুকি

সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করেছে সরকার। চলতি অর্থবছরে অব্যাহত আছে এটি। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কাছ থেকে কম দামে পণ্য পায় সাধারণ মানুষ। কম দামে পণ্য দেওয়ার জন্য টিসিবিকে ঋণ দেয় সরকার। এ ঋণকেও ভর্তুকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আগামী অর্থবছরের বাজেটে আর্থিক প্রতিষ্ঠানবহির্ভূত সংস্থাগুলোকে ঋণ দিতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। এই তালিকায় শুধু টিসিবিই নয়, রয়েছে চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন, পাটকল করপোরেশন ইত্যাদি। ঋণ দেওয়া হলেও এই টাকা সরকার আর ফেরত পায় না। ফলে এগুলোর জন্য বরাদ্দও একধরনের ভর্তুকি।

সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় যাওয়া সরকারি সেবাগুলোর প্রধানতম হলো বিদ্যুৎ। এ খাতে সরকার দীর্ঘদিন যাবৎ ভর্তুকি দিয়ে আসছে।

আইএমএফ একদিকে যেমন সরকারকে ভর্তুকি কমিয়ে আনতে পরামর্শ দিয়েছে, অন্যদিকে সরকারও অর্থসংকটের কারণে ভর্তুকির অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না। বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোকে ভর্তুকির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে সরকার ইতিমধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকার বন্ড দিয়েছে।

সূত্রমতে, আগামী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ৩৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে বিদ্যুৎ খাতে। আর কৃষি খাত বরাদ্দ পেতে পারে ২৫ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া রপ্তানি প্রণোদনায় ৭ হাজার ৮২৫ কোটি, এলএনজি আমদানিতে ৭ হাজার কোটি, খাদ্যে ৭ হাজার কোটি, প্রবাসী আয় আনায় ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে মোট ভর্তুকি কমিয়ে আনতে নতুন করে সার, পানি এমনকি এলএনজির মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ করা হতে পারে।

৬ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকার ঘাটতিসহ আগামী বাজেটের আকার হবে প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকার। বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ থাকবে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকার মতো। এর মধ্যে দেশি ঋণের সুদ ১ লাখ ৮ হাজার কোটি এবং বিদেশি ঋণের সুদ ২০ হাজার কোটি টাকা। পাঁচ বছর আগের তুলনায় এই বরাদ্দ দ্বিগুণের কাছাকাছি।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে সুদ খরচ বাবদ ৯৪ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের মোট ঋণ ছিল ১৬ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৪ কোটি এবং বিদেশি ঋণ ৭ লাখ ৫ হাজার ৫২০ কোটি টাকা।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প পথ ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে যেসব উৎস থেকে কর আদায় করা হচ্ছে, এর বাইরের উৎসগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। সেই উৎসগুলো আমরা এখনো বের করতে পারিনি; বিশেষ করে যাদের টিআইএন আছে, তাদের সবাই রিটার্ন দেয় না।’

তিনি বলেন, ‘ধরা যাক, এক কোটি যদি টিআইএনধারী থাকেন, তাদের ৩০ থেকে ৩৫ লাখ কর দেন মাত্র। এ সংখ্যাটা বাড়াতে পারলে প্রত্যক্ষ কর বাড়ত। আর এ বছর বিভিন্ন নতুন নতুন সূত্র থেকে কর নিতেই হবে। কারণ কর যদি না বাড়ানো যায়, তাহলে আমাদের অনেক বেশি ঋণ করতে হয়। ঋণের সুদ ব্যয়েই বাজেটের বড় অংশ চলে যায়। টাকা সেখানে চলে গেলে আমি শিক্ষায় কী দেব, স্বাস্থ্যে কী দেব।’

এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ যাতে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বড় যারা কর দিতে পারে, তাদের দিকে আরও নজর দিতে হবে; বিশেষ করে প্রত্যক্ষ করের দিকে বেশি নজর দিতে হবে।

মূল্যস্ফীতির এ সময়ে মুদ্রানীতি কেমন হওয়া উচিত এমন প্রশ্নে ড. আতিউর বলেন, ‘এই মুহূর্তে মুদ্রানীতি এমনই থাকতে হবে। কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এর কোনো বিকল্প নেই। যুক্তরাষ্ট্রেও মূল্যস্ফীতি আছে বলেই তারাও এখন সুদের হার, পলিসি রেট কমাচ্ছে না। আমার মতে, মুদ্রানীতির ধরনটা এমনই থাকবে, কিন্তু এর সঙ্গে রাজস্বনীতির সমন্বয় জরুরি।’