গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু করে প্রায় আটমাস ধরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজাতে নির্বিচারে বিমান হামলা, স্থল অভিযানের মাধ্যমে গণহত্যা চালাচ্ছে দখলদার দেশ ইসরায়েল।
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশ যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানালেও গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনে বরাবরই ইসরায়েলের পাশে থেকেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে গাজা উপত্যকায় শান্তি স্থাপনের জন্য এই প্রথম সুনির্দিষ্টভাবে একটি পরিকল্পনার প্রস্তাব করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শুক্রবার রাজধানী ওয়াশিংটনে দেওয়া এক ভাষণে এই প্রস্তাব পেশ করেছেন তিনি।
এরই মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধবিরতি হবে না। হামাসের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। শনিবার (১ জুন) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধ থামানোর জন্য ইসরায়েলের যে শর্ত রয়েছে তা পরিবর্তন হয়নি। তবে এসব শর্তের উদ্দেশ্য হলো হামাসের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো ধ্বংস করা, জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজা পরবর্তীতে ইসরায়েলের জন্য যাতে আর হুমকি না হয়ে দাঁড়ায় সেটি নিশ্চিত করা।
এর আগে ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ বন্ধে প্রথমবারের মতো সুনির্দিষ্টভাবে একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ৩ স্তরের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের এ প্রস্তাবে ইসরায়েল সম্মত হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন পর্বের এ প্রস্তাবের শুরুতে ছয় সপ্তাহের জন্য যুদ্ধ বিরতির কথা বলেছে ইসরায়েল। এটি হবে যুদ্ধ বিরতির প্রথম পর্যায়। এ সময়ে গাজার সব জনবহুল এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হবে।
যুদ্ধবিরতির সময় হামাস ‘নির্দিষ্ট সংখ্যক’ জিম্মিকে মুক্তি দেবে। তাদের মধ্যে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং আহত জিম্মিরা থাকবেন। এর বিনিময়ে ইসরায়েলে বন্দি থাকা কয়েকশ মানুষকে মুক্তি দেওয়া হবে। এ ছাড়া হামাসের হাতে জিম্মি অবস্থায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিতে হবে।
গাজার সব এলাকায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের তাদের বাড়িঘরে ফিরতে সুযোগ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাড়ানো হবে। গাজায় প্রতিদিন মানবিক সহায়তাবাহী ৬০০ ট্রাক ঢুকতে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজাবাসীর জন্য হাজারো সাময়িক আবাসনের ব্যবস্থা করবে।
ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলমান থাকবে। যদি আলোচনা সফল হয়, তাহলে পরবর্তী পর্যায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করা হবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে বাদবাকি জীবিত জিম্মিদের মুক্তি দেবে হামাস। তাদের মধ্যে জিম্মি পুরুষ সেনারাও থাকবেন। সেই সঙ্গে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সর্বশেষ সেনাকেও সরিয়ে নেওয়া হবে। যুদ্ধবিরতিকে ‘স্থায়ীভাবে শত্রুতা বন্ধে’ উন্নীত করা হবে।
তৃতীয় পর্যায়ে জিম্মি ফেরানোর প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ করা হবে। গাজার জন্য বড় ধরনের একটি ‘পুনর্গঠন পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন শুরু করা হবে। এর আওতায় মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সহায়তায় গাজা উপত্যকায় বাড়ি, বিদ্যালয় ও হাসপাতাল পুনর্নির্মাণ করা হবে।