নিজেতে ভীষণ আস্থা বাটলারের

র‌্যাংকিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়ে থাকা চীনা তাইপের বিপক্ষে ৩-৫-২ ফরম্যাশনে খেলিয়ে কোনো ভুল করেননিÑ শুক্রবার ৪-০ তে হারার পর এমন দাবি করেছিলেন বাংলাদেশের নয়া ব্রিটিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। এই কৌশলের সঙ্গে ধাতস্থ হতে পারেনি বাংলাদেশ। রক্ষণ জমাট না করে কেবল আত্মমণাত্মক হতে গিয়ে বারবার খেই হারিয়েছে তিনজনকে নিয়ে গড়া বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। প্রতিপক্ষের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বারবার গোল উদযাপন করেছে চীনা তাইপে। তারপরও বাটলার নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে চান। আর চান তারুণ্যে আস্থা রাখতে যাতে করে দলের সিনিয়রদের মধ্যে ভালো করার তাড়নাটা বাড়ে। আজও আন্তর্জাতিক প্রীতি সিরিজে দ্বিতীয় ম্যাচটি খেলবে দুদল। আজও হয়তো এরকম অদ্ভুত সব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মাতবে বাংলাদেশ।

শুক্রবারের ম্যাচ শেষে চীনা তাইপের কোচও বলেছিলেন, বাংলাদেশের কাছ থেকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশা করেছিলেন তিনি। অন্তত ডিফেন্সটা আরও একটু জমাট থাকলে তার শিষ্যদের গোল পেতে কষ্ট হতো বলে দাবি করেছিলেন সফরকারী দলের কোচ। তবে প্রতিপক্ষ দলের কোচের কথা থোড়াই কেয়ার করেন বাটলার। তিনি মনে করেন পরিবর্তনের পথে না হাঁটলে বাংলাদেশের নারী ফুটবল এগুবে না।

কথাটা একেবারে মিথ্যে, তা নয়। পরের ধাপে যেতে হলে পরিবর্তন লাগবেই। তবে সেটা করতে গেলে পাল্টাতে হবে দলের খলনলচে। বদল আনতে হবে আরও অনেক ক্ষেত্রে। আর সেই পরিবর্তনের পথে হাঁটার সময় এটা নয়। আগামী অক্টোবরে বসতে যাচ্ছে সাফের আসর। শিরোপা ধরে রাখতে হলে বর্তমানেই আস্থা রাখতে হবে। সেটা না করে বাটলার যদি এখন ভবিষ্যতের কথা ভেবে পদক্ষেপ নেন, তবে ঘরের মাঠেই হয়তো শিরোপা খোয়াতে হবে বাংলাদেশকে।

অন্তত এমন একটা বিশ্বাস কাজ করছে বাংলাদেশ দলের অভ্যন্তরে। নতুন কোচের দর্শন ঠিক মনে ধরছে না খেলোয়াড়দের। কোচের আচার-ব্যবহার নিয়েও নাকি বিরক্তি আছে খেলোয়াড়দের মধ্যে। তো, অসুখী একটা দলের কাছ থেকে খুব ভালো কিছু কি আশা করা যায়? তাই ঘুরে দাঁড়ানো নয়, বরং আরেকটি বড় হার হাতছানি দিয়ে ডাকছে বাংলাদেশকে।