গাজা উপত্যকায় শান্তি স্থাপনের জন্য তিন স্তরের একটি যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনার প্রস্তাব করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত শুক্রবার এই প্রস্তাব পেশ করেন তিনি।
ইতিমধ্যে বাইডেনের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। লিখিত নথি পেলে এই প্রস্তাব এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছে তারা। খবর আল জাজিরা।
যদিও ইসরায়েল বলছে যে হামাসকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস না করা পর্যন্ত স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না তারা। তবে গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিভক্তি তৈরি হয়েছে দেশটিতেই। চারদিক থেকে চাপে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।
বাইডেনের যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা প্রকাশের পরপরই বেকে বসেছে নেতানিয়াহুর জোট সরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। এ বিষিয়ে মন্ত্রীরা বলেন, হামাসকে নির্মূল করার আগে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি সইয়ের বিরোধী তাঁরা।
এমনকি এই প্রস্তাবে নেতানিয়াহু রাজি হলে তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ ও ক্ষমতাসীন জোট সরকার ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন দেশটির কট্টর ডানপন্থী এই দুই মন্ত্রী।
অন্যদিকে বাইডেন ঘোষিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় নেতানিয়াহু সমর্থন জানালে ইসরায়েলের সরকারকে সমর্থন জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রভাবশালী বিরোধী নেতা ইয়ার ল্যাপিড।
এছাড়া চুক্তি মেনে নিয়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে প্রতিনিয়ত বিক্ষোভ করছেন দেশটির জনগণ। সবশেষ শনিবার রাতেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে দেশটিতে। ইসরায়েলের এমন অনড় অবস্থানের বিষয়ে জিম্মিদের পরিবারগুলো বলছে, সময় ফুরিয়ে আসছে। অনেক জিম্মির পরিবার বলছে, তাদের মুক্তির জন্য সরকারের কোনো সদিচ্ছাই নেই।
ঘরের বাইরেও প্রবল চাপে রয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। মধ্যস্থতাকারী যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের দাবিতে প্রতিনিয়ত চাপ দিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল ও হামাসকে। তারা বলছে, প্রস্তাবিত চুক্তিটি ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও সংকট অবসানের জন্য রোডম্যাপ।’
ইতিমধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব ও জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। একই সঙ্গে তিনি গত শনিবার কাতার, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
অন্যদিকে বাইডেনের গাজায় যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা বিশ্লেষন করে বিশেষজ্ঞরা বলছে, মনে হচ্ছে বাইডেন নিজেও ইসরায়েল সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
যদিও ইতিমধ্যে বাইডেনের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে হামাস, তবে এখন দেখার বিষয় ঘরে বাইরে চাপে থাকা নেতানিয়াহু কি সিদ্ধান্ত নেন।
কি রয়েছে বাইডেনের গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায়?
বাইডেনের প্রস্তাবিত তিন স্তরের চুক্তির প্রথম ধাপে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কথা বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্য গাজার সব ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে এবং প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেবে।
এছাড়া প্রথম ধাপেই নারীসহ বেশ কিছু জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। বিপরীতে বয়স্ক ও আহতসহ কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল।
দ্বিতীয় ধাপে পুরুষ সৈন্যসহ অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রস্তাবের তৃতীয় ধাপে গাজায় মৃত ইসরায়েলি জিম্মিদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনা হবে এবং গাজায় ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ি, স্কুল এবং হাসপাতাল মার্কিন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার মাধ্যমে পুনর্নির্মাণ শুরু কড়া হবে।