মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক পদ থেকে হঠাৎ পদত্যাগ করেছেন স্যালি বাজবি। তিন বছর সংবাদমাধ্যমটির দায়িত্ব পালনের পর এ সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। গতকাল রোববার এ ঘোষণা দেয় মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট কর্তৃপক্ষ।
জনপ্রিয় মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির ১৪৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন স্যালি। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন পোস্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, স্যালির পরিবর্তে নির্বাহী সম্পাদকের পদে বসতে যাচ্ছেন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের (ডব্লিউএসজে) সাবেক এডিটন ইন চিফ ম্যাট মুরে। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই গুরুদায়িত্ব সামলাবেন মুরে।
তবে নির্বাচনের পর যুক্তরাজ্যভিত্তিক টেলিগ্রাফ মিডিয়া গ্রুপের ডেপুটি এডিটর রবার্ট উইন্নেট পাকাপোক্তভাবে নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব নেবেন বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।
পাশাপাশি ওয়াশিংটন পোস্ট আরও ঘোষণা করেছে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দর্শক ও সাংবাদিকতার ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন বিভাগ" চালু করবে যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া জার্নালিজম চর্চা হবে এবং প্রচলিত ধারার চেয়ে ভিন্ন উপায়ে সংবাদ কোটি কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেবে।
তবে বিবৃতিতে স্যালির পদত্যাগের কোন কারণ জানানো হয়নি এবং তার কোনো মন্তব্যও ছিল না।
রোববারের এক ঘোষণায় ওয়াশিংটন পোস্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্বাহী সম্পাদক সালি বাজবির সঙ্গে তাদের আর সম্পর্ক নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সময়ে হঠাৎ করেই এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নতুন প্রকাশক ও প্রধান নির্বাহী উইলিয়াম লুইস এ ঘোষণা দেন।
এক বিবৃতিতে লুইস বলেন, ‘সালি একজন অসাধারণ নেতা এবং অনেক প্রতিভাবান এক গণমাধ্যম নির্বাহী। তাঁর শূন্যতা অনেক বেশি বোধ করব। তাঁর সামনের দিনগুলোর জন্য অনেক শুভকামনা জানাচ্ছি।’
তবে আরেক মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন বলছে, স্বনামধন্য এ সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণভাবে টানাপোড়েনের মধ্যে ছিলেন স্যালি। তাঁর তিন বছরের মেয়াদে দ্য পোস্ট অনেক পাঠক হারিয়েছে।
যদিও স্যালির তত্ত্বাবধানে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ঝুলিতে সাংবাদিকতা অঙ্গনের কয়েকটি অর্জন জমা হয়েছে, অনেকগুলো পুরস্কার পেয়েছে। তবে তাঁর মেয়াদেই ওয়াশিংটন পোস্টে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এ নিয়ে সংবাদ শিরোনামও হয়েছে, যা সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানটিকে লজ্জায় ফেলে দেয়।