একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাচ্ছেন মোদি?

এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সাত দফায় ভোটগ্রহণের পর ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (৪ জুন)।

যদিও শেষ দফার ভোট গ্রহণের দিন বুথফেরত জরিপ সংস্থাগুলো পূর্বাভাস জানিয়েছিল যে, এবারও বিপুল ভোটে বিজয় পাচ্ছে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তার নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ। কিন্তু প্রাথমিক ফল ঘোষণা শুরু হতেই সমস্ত বুথফেরত জরিপের ভবিষ্যদ্বাণী উল্টে দিচ্ছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া।

মঙ্গলবার সকালে ভোট গণনা শুরুর পর থেকেই বিজেপির সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চালাচ্ছে ইন্ডিয়া জোট। আর এতে করে বিজেপির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের বিষয়টি ততই ফিকে হয়ে আসছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার সর্বশেষ তথ্যানুসারে, অন্তত ২৩৫ আসনে এগিয়ে রয়েছে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইনডিয়া জোট। ফলে এবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। অর্থাৎ একাই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন না-ও পেতে পারে প্রধানমন্ত্রী মোদির দল।

তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ ৩০০ আসনে জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত এনডি জোট এগিয়ে আছে ২৯০ আসনে। অন্যদিকে ইনডিয়া জোট এগিয়ে রয়েছে ২৩৫ আসনে। যেখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ২৭২ আসন।

এতে করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাচ্ছে ক্ষমতাসীন বিজেপি? যেখানে ২০১৯ সালের লোকসভার নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল ৩০৩টি আসন। আর বিজেপির জোট এনডিএ পেয়েছি ৩৫৩টি আসন।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও বিজেপি সুবিধা করতে পারেনি। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টিতে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। দুপুর দুইটা পর্যন্ত যে ফলাফল পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, ৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি।

তবে এবার বড় বড় রাজ্যের মধ্যে বেশ কয়েকটিতেই ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। বিশেষ করে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেয়েছে নরেন্দ্র মোদির ঘাঁটি উত্তর প্রদেশে। এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক ফলে দেখা যাচ্ছে, এ রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে শক্ত টক্কর দিচ্ছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া এবং এগিয়েও রয়েছে তারা।

এছাড়া সমাজবাদী পার্টি এগিয়ে রয়েছে উত্তরপ্রদেশে। গত লোকসভা ভোটে পেয়েছিল এই দলটি পেয়েছিল মাত্র পাঁচটি আসন। সেই দলই এ বার ৩৮টি আসনে এগিয়ে। আজমগড়ে এসপি প্রার্থী ধর্মেন্দ্র যাদব তার নিকটতম প্রার্থী বিজেপির দীনেশ লালের থেকে ৪৫ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

উত্তর প্রদেশে এবার অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বাধীন সমাজবাদী পার্টি ৬২টি আসনে লড়ছে, আর কংগ্রেস লড়ছে ১৭ আসনে।

কংগ্রেসের জন্য এ রাজ্যের আমেথি ও রায় বারেলি পারিবারিকভাবেই শক্তিশালী আসন। এ আসন দুটিতে, বিশেষ করে আমেথিতে জয় পাওয়া তাদের মর্যাদার ব্যাপার। গতবার আমেথিতে বিজেপির স্মৃতি ইরানির কাছে হেরে গিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। আজ সকাল এগারোটা (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১১টা) পর্যন্ত গান্ধী পরিবারের অনুগত কিশোরী লাল শর্মার কাছে পিছিয়ে রয়েছেন স্মৃতি ইরানি। অন্যদিকে রায় বারেলিতে রাহুল গান্ধী ৬০ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছে।