সাত দফায় প্রায় আড়াই মাস ধরে ভোটগ্রহণ শেষে ভারতে আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে শুরু হয়েছে ১৮ তম লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা। দেশটির নতুন সরকার গঠন করবে কে তা ভোট গণনা শেষে আজই জানা যাবে। গণনা শেষে স্পষ্ট হবে কে বসতে যাচ্ছেন দিল্লির মসনদে।
ইতিমধ্যে গণনা চলছে দেশটির ৫৪২টি লোকসভা আসনে। এদের মধ্যে ভারতের রাজধানী এবং সংসদ ভবনের শহর দিল্লিতে লোকসভা আসনের সংখ্যা মাত্র সাতটি। আসন সংখ্যা কম হলেও দিল্লির নির্বাচনী আসনগুলোকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের তথ্য অনুযায়ী, ভোট গণনার প্রাথমিক ফল অনুযায়ী দিল্লির সাতটি আসনেই এগিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন জোট বিজেপি। এর আগে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও দিল্লির সবকটি আসনে জিতেছিল বিজেপি।
রাজধানীর উত্তর-পূর্ব দিল্লি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হলেন মনোজ তিওয়ারি এবং কংগ্রেসের প্রার্থী হলেন কানহাইয়া কুমার। পশ্চিম দিল্লির বিজেপির প্রার্থী হলেন কমলজিৎ শেরাওয়াত এবং আম আদমি পার্টির (আপ) প্রার্থী হলেন মহাবল মিশ্র। দক্ষিণ দিল্লির বিজেপি প্রার্থী হলেন রমেশ বিধুরি এবং আম আদমি পার্টির (আপ) প্রার্থী হলেন সাহিরাম।
নির্বাচনী বিশ্লেষকেরা মনে করেছিলেন, এবার চিত্র ভিন্ন হবে। বিজেপির হয়তো সবকটি আসনে জয় পাওয়া সহজ হবে না। কারণ গত এপ্রিলে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে দুর্নীতির অভিযোগে কারাবন্দী করেছিল মোদির প্রশাসন। তারপর দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছিল কেজরিওয়ালের দল আম আদমি পার্টির সমর্থকেরা।
কেজরিওয়ালকে কারাবন্দী করার কারণে বিজেপির জনসমর্থন কমতে পারে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনে এমনটাই ভেবেছিলেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু ধারণা সত্যি হল না।
এছাড়া গত মাসে ২১ দিনের জন্য জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর দিল্লিবাসীকে এএপিকে ভোট দিতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাকে যেন আর কারাগারে থাকতে না হয় সেজন্য অনুরোধ করেছিলেন তিনি। কিন্তু আজ মঙ্গলবার প্রাথমিকে ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, তাঁর অনুরোধে সাড়া দেয়নি দিল্লিবাসী।
২০১৪ এবং ২০১৯ সাল শেষ দুটি লোকসভা নির্বাচনেই দিল্লিতে ‘ক্লিন সুইপ’ করেছিল বিজেপি। আপাত দৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে, এবারও সেই একই ধারা অব্যাহত রাখতে যাচ্ছে মোদির দলটি।
গত ১৯ এপ্রিল শুরু হয়েছিল ভারতের ১৮তম লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। শেষ হয়েছে ১ জুন। দেড় মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৬৪ কোটিরও বেশি ভোটার।