সার্বজনীন পেনশন ঠেকাতে চবি শিক্ষকদের অর্ধদিবস কর্মবিরতি 

সার্বজনীন পেনশনের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে অর্ধ দিবস কর্মবিরতি পালন করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (৪ জুন) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চবি শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে সকল ধরণের ক্লাস বর্জন করেন চবি শিক্ষকগণ। তবে পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে সেটা প্রত্যাহারের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে গত ২৬ মে সার্বজনীন পেনশন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করে চবি শিক্ষক সমিতি। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবি তোলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। 

দুপুর সাড়ে বারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষক সমিতির নেতারা। এ সময় সমিতির নেতারা দাবি করেন, শিক্ষকগণ একটা জাতি গঠনে ভূমিকা রাখে। কিন্তু সার্বজনীন পেনশন তাদের উপরেই বৈষম্যের আঘাত। এতে শিক্ষকগণ কী জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে প্রশ্ন তুলেন তারা। এই বৈষম্য ও নিপীড়ন মূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। এরসঙ্গে প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবি তুলেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবদুল হক বলেন, ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য সুপার স্কিমের কথা বললেও সেটা কার্যকর করেনি সরকার। স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো নেই আমাদের। যখন শিক্ষকগণ দাবি তুলেছে তখনই সরকার বলেছে ‘আপনারা তো অতুলনীয়’, ইত্যাদি নানা মুখরোচক কথা। 

এ সময় চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুব রহমান বলেন, সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ করার স্বপ্ন দেখছে কিন্তু শিক্ষকদেরকে বঞ্চিত করে কি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তাই সর্বজনীন বেতন স্কেল বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন করতে হবে। 

সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এ. বি. এম. আবু নোমান বলেন, আমরা 'প্রত্যয় স্কিমে' নয় বরং স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের মধ্যেই থাকতে চাই। আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ করতে হবে। 

চলতি বছরের ১৩ মার্চ, ২০২৪ সরকার সার্বজনীন পেনশনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, আগামী ১ জুলাই থেকে যে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারী চাকরিতে যোগ দিবেন তাদের জন্য সার্বজনীন পেনশন স্কিমের 'প্রত্যয় স্কিম' বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জন্য বিদ্যমান অবসর সুবিধা সংক্রান্ত বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে না।