পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির স্বপ্ন ধূলিসাৎ

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ২০১৯ সালে ১৮টি আসন পেয়ে দুর্দান্ত ফল করেছিল বিজেপি। অপরদিকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল গত লোকসভা নির্বাচনে পেয়েছিল ২২টি আসন। এবারও একাধিক বুথ ফেরত সমীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভালো ফলের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তৃণমূল এবার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে না এমন আভাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার বাস্তব প্রতিফলন হলো না। বরং ধরাশায়ী হলো গেরুয়া শিবির। গতবারের প্রায় অর্ধেক আসনে নেমে গেল তারা। 

এবার এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে পশ্চিমবঙ্গে ৪২ আসনের মধ্যে ৩০টি আসনে এগিয়ে আছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ১২টি আসনে এগিয়ে বিজেপি।

এবার এমন ধরাশায়ী হওয়ার বেশ কিছু কারণ খুঁজে পেয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। ২০১৯ সালে মেদিনীপুরের জিতেছিলেন দিলীপ ঘোষ সেবার বিজেপি জিতেছিল ১৮ আসনে। এবার সেই দিলীপকেই পাঠানো হলো বর্ধমান-দুর্গাপুরে। যেখানে তিনি হারের মুখে। অন্যদিকে, মেদিনীপুরে অগ্নিমিত্রা পালও পিছিয়ে। ফলে জেতা দুই আসনই খোয়াতে হচ্ছে বিজেপিকে। সূত্রের খবর, দিলীপ অন্য আসনে যেতে চাননি। শেষপর্যন্ত সম্মত হন।   

বাংলায় বিজেপির কৌশল বলতে, হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ আর ইডি-সিবিআই তদন্ত। এর বাইরে মোদির মুখের ওপর ভরসা করে বৈতরণী পার হতে চেয়েছিল। এর বাইরে দলের পক্ষ থেকে কোনো পোক্ত কৌশল ছিল না। যার খেসারত দিতে হলো। উল্টো দিকে বাংলার প্রতি বিজেপি বঞ্চনার অভিযোগ ক্রমাগত তুলে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে কৌশল সফল হয়েছে বলে ভোটের ফলেই প্রমাণিত। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্রমাগত লড়াই করে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু, তিনি বিশ্বাসযোগ্য মুখ নন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাদের মতে, তৃণমূল ছেড়ে আসার পর দু-দুটো নির্বাচন পার করলেন শুভেন্দু। কিন্তু, দলকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য দিতে পারলেন না। দিলীপ ঘোষের মতো নেতা যিনি দলকে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন, তিনিই চলে গেলেন অন্তরালে। দিলীপের দিলীপের সভাপতিত্বেই ১৮ আসন পেয়েছিল গেরুয়া শিবির।       

বাংলায় সংখ্যালঘু ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর। ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট হাতছাড়া হওয়া মানে অনেকটা পিছিয়ে থেকে শুরু করা। এবারও রাজ্যে সংখ্যালঘুদের মন জেতার চেষ্টা করেনি বিজেপি। তাছাড়া সংখ্যালঘু মুখও তেমন নেই তাদের দলে। উল্টো বিজেপি নেতাদের নানা মন্তব্য সংখ্যালঘুদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।