অযোধ্যায় রাম মন্দিরের উদ্বোধনে রামলালার পায়ের সামনে লুটিয়ে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী যেমন নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন রামচন্দ্রের চরণে, তেমনি সঁপে দিয়েছিলেন নিজের ভোটভাগ্যকেও। বস্তুত, গোটা ভোটপর্বে হিন্দুত্বকেই নিজের প্রথম এজেন্ডা বানিয়েছিলেন মোদি।
আসলে গত দুই নির্বাচনে বিপুল হাওয়া ছিল বিজেপির পক্ষে। ২০১৪ সালে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ কংগ্রেস সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভ, এবং আচ্ছেদিনের ‘স্বপ্ন’ পাথেয় করে ভোটবাক্সে ঝড় তুলেছিলেন মোদি। ২০১৯-এ ছিল পুলওয়ামা-বালাকোট ঝড়।
এবারে ঝড় তোলার মতো হাতে গরম ইস্যু ছিল না। অতএব, নরেন্দ্র মোদি তড়িঘড়ি রাম মন্দির উদ্বোধন করলেন। দেশের চার শীর্ষ শঙ্করাচার্যের আপত্তিকেও তোয়াক্কা করেননি। ভোট প্রচারে নেমেও মোদি ‘আচ্ছে দিন’, ‘উজ্বলা যোজনা’, ‘বিনামূল্যে রেশন’ প্রকল্পের মতো সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের প্রচারণা চালান।
এরপর প্রথম দফার ভোটে পুরোপুরি হিন্দুত্ব, মেরুকরণের প্রচার শুরু করেন মোদি। কখনও তিনি বলেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে হিন্দু মা বোনদের মঙ্গলসূত্র কেড়ে নেবে। কখনও তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস এলে হিন্দুদের সম্পত্তি ভাগ করে দেবে যাদের বেশি সন্তান তাদের মধ্যে।’ কখনও তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে ভেঙে দেবে রাম মন্দির!’ শেষবেলায় এসে যখন বুঝলেন এত কিছুতেও বিশেষ লাভ হচ্ছে না, তখন সোজা নিজেকে ঈশ্বরের দূত হিসাবে প্রচার করা শুরু করলেন।
কিন্তু এত কিছুর পরও হিসাব বলছে, ২০১৯ সালের তুলনায় তো বটেই ২০১৪ সালের থেকেও কম আসন পাচ্ছে এনডিএ। আর বিজেপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অনেকটাই পিছনে। যেসব রাজ্যে হিন্দুত্বের হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভরসা করছিল সেই উত্তরপ্রদেশ, বাংলা, রাজস্থানে গেরুয়া শিবিরের একপ্রকার বিপর্যয় হয়েছে। ক্ষমতায় ফিরলেও ৪০০ পারের স্লোগান দেওয়া বিজেপির পক্ষে এই ফলাফল কিঞ্চিত বিপর্যয়ই বলতে হবে।