টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রতি আসরেই তরুণসহ বেশ কিছু খেলোয়াড়ের ওপর থাকে নজর। অনেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আলো ছড়ানোয় তাদের নিয়ে থাকে বাড়তি আগ্রহ। কেউ এরই মধ্যে জাতীয় দলেও দেখিয়েছেন ঝলক। সেই সব খেলোয়াড় বিশ্বকাপে কেমন করতে পারেন তা নিয়ে থাকে বাড়তি আগ্রহ। এবারের বিশ্বকাপে স্পটলাইটে থাকবেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। তাদের নিয়ে লিখেছেন তানভীর এলাহী
ট্রিস্টান স্টাবস
দক্ষিণ আফ্রিকা
২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়ই স্টাবসকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখেছিলেন অনেকে। তবে তিন ইনিংসে মাত্র ২১ রান করে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। স্টাবসের দিকে এই বিশ্বকাপেও থাকবে নজর। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১৭ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৫৫ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ২৩৯ রান। আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ভালোই করেছেন স্টাবস। ১৩ ইনিংসে ৫৪ গড় ও ১৯০ স্ট্রাইক রেটে ৩টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৩৭৮ রান করেন। তাই এবার জাতীয় দলের হয়ে বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের পালা স্টাবসের। আইপিএলের ফর্ম আসন্ন বিশ্বকাপেও অব্যাহত রাখবেন স্টাবস, এমনটাই প্রত্যাশা থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকার।
যশস্বী জয়সওয়াল
ভারত
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে খেলবেন ২২ বছর বয়সী জয়সওয়াল। এবারই প্রথম আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে খেলবেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তাকে খেলায়নি ভারত। ২০২৪ আইপিএলেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। টেস্ট দিয়ে অভিষেক হওয়া জয়সওয়াল এরই মধ্যে ভারতের হয়ে ১৭ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। এক সেঞ্চুরি ও চার ফিফটি আছে তার। সদ্য শেষ হওয়া আইপিএলে এই বাঁ-হাতি ওপেনার রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ১৫ ইনিংসে ১টি করে সেঞ্চুরি ও হাফ-সেঞ্চুরিতে ১৫৫ স্ট্রাইক রেটে ৪৩৫ রান করেছেন। ওপেনিংয়ে রোহিতের সঙ্গে জয়সওয়াল কেমন করবেন সেটিই দেখার।
মাথিশা পাথিরানা
শ্রীলঙ্কা
মালিঙ্গার মতো বোলিং অ্যাকশন হওয়ায় প্রথমে আলোচনায় আসেন মাথিশা পাথিরানা। তবে ধীরে ধীরে এরই মধ্যে নিজেকে প্রমাণ করেছেন শ্রীলঙ্কান এই পেসার। সবশেষ আইপিএলেও দারুণ বোলিং করেছেন। ৬ ইনিংসে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। তবে লঙ্কানদের হয়ে ৬ টি-টোয়েন্টিতে ১১ উইকেট তার। জাতীয় দলের হয়ে নিজেকে প্রমাণের জন্য বিশ্বকাপের মঞ্চের চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে।
নাঙ্গইয়াল খারোতি
আফগানিস্তান
এবার আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তরুণদের আধিপত্য দেখা গেছে। চমক হিসেবে আছেন বাঁ-হাতি স্পিনার নাঙ্গইয়াল খারোতি। গেল মার্চে আয়ারল্যান্ড সিরিজে অভিষেক। ৩ টি-টোয়েন্টিতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। তবে ইকোনমি রেট ৫.৯০। ২০ বছরের এই তরুণ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচেও দারুণ বল করেছেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২ ওভারে ৩ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।
তাওহীদ হৃদয়
বাংলাদেশ
তাওহীদ হৃদয়ের জাতীয় দলে অভিষেক হয় গত বছরের মার্চে। নিজেকে এরই মধ্যে প্রমাণ করে জাতীয় দলে নিয়মিত হয়ে উঠেছেন। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে ১৯ ইনিংসে করেছেন ৪৫৪ রান। ফিফটি করেছেন দুটি। এবারই প্রথম খেলবেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টি-টোয়েন্টিতে হৃদয়ের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সটা বজায় রাখবেন বিশ্বকাপে তাই প্রত্যাশা করবে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে সিরিজে ৫ ইনিংসে করেছেন ১৪০ রান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেও দুই ম্যাচে খেলেছেন ৫৮ ও ২৫ রানের ইনিংস।
টিম ডেভিড
অস্ট্রেলিয়া
টিম ডেভিডের বয়স ২৮। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ তিনিই। ডেভিড এরই মধ্যে অজিদের হয়ে ৩৯ ম্যাচে ১০৬২ রান করেছেন। তার গড় ৩৯.৩৩, স্ট্রাইক রেট ১৬৩.৬৩। মিডল অর্ডার এই ব্যাটসম্যানের দিকে থাকবে বাড়তি নজর।
রাচিন রবীন্দ্র
নিউজিল্যান্ড
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে চমক দেখিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের রাচিন রবীন্দ্র। ৩ সেঞ্চুরি ও ২ ফিফটিতে টুর্নামেন্টে চতুর্থ সর্বোচ্চ ৫৭৮ রান করেছিলেন। আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের পুরস্কারও পান। টি-টোয়েন্টিতে জাতীয় দলের হয়ে ওপেনিং বা তিনে খেলে থাকেন রাচিন। কিউইদের হয়ে সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটে দুর্দান্ত কিছু এখনো করতে পরেননি। ১৮ ইনিংসে ২১৪ রান। সবশেষ আইপিএলেও চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ১০ ম্যাচে ২২ গড় ও ১৬০ স্ট্রাইক রেটে করেন ২২২ রান। তবু আইসিসি মঞ্চে এর আগে নিজেকে প্রমাণ করা রাচিনের দিকে থাকবে নজর।
দীপেন্দ্র সিং আইরি
নেপাল
২৪ বছরের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান দীপেন্দ্র সিং আইরি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বেশ অভিজ্ঞ। এরই মধ্যে খেলে ফেলেছেন ৬৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসা নেপালের আইরির দিকে নজর থাকবে ভিন্ন কারণে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড দীপেন্দ্রর দখলে। গত বছর হ্যাংঝু এশিয়ান গেমসে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৯ বলে ফিফটিতে ভাঙেন ২০০৭ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যুবরাজ সিংয়ের করা ১২ বলে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড।
শামার জোসেফ
ওয়েস্ট ইন্ডিজ
গেল জানুয়ারি মাসে ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই জয়ের নায়ক ছিলেন শামার জোসেফ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৮ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। সেই ম্যাচের পর থেকেই আলোচনায় উইন্ডিজ এই পেসার। এখন পর্যন্ত তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকলেও প্রথম ম্যাচে খেলার সুযোগ হয়নি। তবুও জোসেফের দিকে থাকবে নজর ।
উইল জ্যাকস
ইংল্যান্ড
উইল জ্যাকসের উত্থানটা মূলত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে। বিপিএলের ২০২২ আসরে ১১ ম্যাচ খেলে ৪ ফিফটিতে ৪১৪ রান করেছিলেন তিনি। সেই পারফরম্যানসের পর ইংল্যান্ডের হয়ে জাতীয় দলে ডাক পান উইল জ্যাকস। ইংলিশদের হয়ে ১৩ ম্যাচে ২৩৮ রান করেছেন জ্যাকস। ১৮.৩০ গড় হলেও জ্যাকসকে নিয়ে সমর্থকরা আশা দেখছেন সম্প্রতি তার আইপিএল পারফরম্যানসের কারণে। সদ্যসমাপ্ত আইপিএলে দারুণ ছন্দে ছিলেন ইংল্যান্ডের এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার। একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ-সেঞ্চুরিতে ৩২.৮৬ গড় এবং ১৭৫.৫৭ স্ট্রাইক রেটে ৮ ম্যাচে ২৩০ রান করেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে মাত্র ৪১ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
সাঈম আইয়ুব
পাকিস্তান
পাকিস্তানের হয়ে ২১ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন সাঈম আইয়ুব। ১৯ ইনিংসে করেছেন ২৮৬ রান। ১৫.০৫ গড় ও ১২৭.৬৭ স্ট্রাইক রেট টি-টোয়েন্টির সঙ্গে মানানসই নয়। তবু ডানহাতি এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের ওপর থাকবে নজর। পাকিস্তান দলে অভিজ্ঞদের ভিড়ে ২২ বছর বয়সী আইয়ুব নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারেন বিশ্বমঞ্চে সেটি হবে দেখার।