বিশ্ব ফ্যাটি লিভার দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হেপাটোলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে দেশ রূপান্তর কার্যালয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ জুন) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হয়। গোলটেবিল বৈঠকের মিডিয়া পার্টনার দেশ রূপান্তর। আর সহযোগিতায় ছিল বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি।
দেশ রূপান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা মামুনের সভাপতিত্বে ও ফিচার এডিটর মোহসীনা লাইজুর সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা।
গোলটেবিল বৈঠকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল এর সাবেক উপাচার্য কামরুল হাসান খান বলেন, আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। নিজেকে ভালো রাখতে হলে নিয়ম মেনে চলতে হবে। লাইফস্টাইল ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের শৈশব-কৈশোর সোনালী ছিল। আমাদের বাবা মায়ের লাইফস্টাইল সঠিক ছিল।
অন্য একটা রোগ নির্নয় করতে গিয়ে বেশিরভাগ মানুষের ফ্যাটি লিভার ধরা পড়ে। ভাতের সঙ্গে কাইবোহাইড্রেড বেশি থাকায় দক্ষিণ এশিয়ায় ফ্যাটি লিভার বেশি হয়।ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে যাদের ডায়াবেটিস আছে, হাইপারটেনশন আছে তাদের ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আমরা যদি শেষ জীবনে ভালো থাকতে চাই তাহলে ফ্যাটি লিভার সম্পর্কে জানতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্কুল থেকে স্বাস্থ্যের বেসিক শিক্ষা শুরু করতে হবে। কী করলে ভালো থাকা যায় আর কোন অভ্যাস আমাদের অসুস্থ করে দেয় এটা শিশুদের শিখাতে হবে। ওজন কমাতে হবে । ফ্যাটি লিভার রোগ থেকে বেঁচে থাকতে হলে শাকসবজি বেশি খেতে হবে। মিষ্টি পানি এড়িয়ে চলতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
দেশের ৯০ ভাগ চিকিৎসা দেয় মেডিকেল গ্রাজুয়েটরা। মেডিকেল কলেজে পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিজেস্টার তৈরি করছে। এমবিবিএস চিকিৎসকরা সবধরনের চিকিৎসা করতে পারেন। শিক্ষা ও চিকিৎসা এখন বিশ্বে সবচেয়ে বড় ব্যবসা। বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বছরে কত মানুষ মারা যায় তা কেউ জানে না। সামান্য এনজিওগ্রাম করাতে গিয়েও রোগীর মৃত্যু হয়। অথচ তা কেউ জানে না। দেশ থেকে বিদেশে রোগী পাঠাতে হাজার হাজার এজেন্ট নিয়োগ করে রাখা হয়েছে। গবেষণার জন্য পরিবেশ দিতে হবে, আর্থিক ও গবেষণা উপকরণ সরবারাহ করতে হবে।
আমলাতন্ত্র এ পথে বাধা। যারা গবেষণা করবে তারা প্রাক্টিস করবে না। এটা সারা বিশ্বের নিয়ম। আমাদের ছেলে মেয়েরা অনেক মেধাবী। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জায়গায় তারা সেই ছাপ রেখে চলেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের দেশে গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। আমরা ডাক্তার ও সাধারণ মানুষ শেষ জীবনের ভয়াবহতা নিয়ে চিন্তা করি না। আমাদের জীবনের সব অনিয়মের ফলে শেষ জীবনে ভয়াবহ সব অসুখ হয়।