হাইকোর্টের আদেশের পরেও এক ব্যক্তির নামে পাসপোর্ট ইস্যু না করায় সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানকে আদালত অবমাননার অভিযোগে দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার শাস্তি দিয়েছে হাইকোর্ট। আজ বুধবার (৫ জুন) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তাকে দাঁড়িয়ে থাকার এ সাজা দেয় আদালত। আদালত রায়ে বলেছে, ফৌজদারি মামলা বা তদন্ত চলাকালে কাউকে পাসপোর্ট দেওয়া থেকে বিরত রাখা যাবে না।
আইনজীবীদের তথ্য মতে, হুসাইন আহমেদ নামে এক ব্যক্তি পাসপোর্ট পেতে গত বছরের ২২ অক্টোবর অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে সুনামগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করেন। এ লক্ষ্যে তিনি আবেদনের কাগজের নথি জমা, বায়োমেট্রিক ফিঙ্গার প্রিন্টসহ যাবতীয় নিয়ম সম্পন্ন করার পর তাকে ১৩ নভেম্বর তারিখ উল্লেখ করে ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হয়। তবে, পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময়কালে স্থানীয় থানা থেকে জানানো হয়, তার নামে ৬টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। হুসাইন আহমেদ থানাকে অবহিত করে জানান, মামলাগুলোর পাঁচটিতে তিনি খালাস ও একটি বিচারাধীন। তবে, মামলা বিচারাধীন থাকায় তার পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রতিবেদন নেতিবাচক আসে।
এরপর তিনি পাসপোর্ট চেয়ে আইনি নোটিস পাঠান। এর জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। গত ৩ মার্চ হাইকোর্ট ১৫ দিনের মধ্যে হুসাইন আহমেদকে পাসপোর্ট সরবরাহের নির্দেশসহ রুল দেয়। তবে, আদেশের অনুলিপি সুনামগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে জমা দিয়ে পাসপোর্ট সরবরাহ করতে অনুরোধ করেন। তবে, মনিরুজ্জামান ৩ এপ্রিল হুসাইন আহমেদকে চিঠি দিয়ে পাসপোর্ট ইস্যু না করার কথা জানিয়ে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে পিটিশন দাখিল করা হয়। গত ২৬ মে হাইকোর্ট মনিরুজ্জামানকে সশরীরে হাজির হতে আদেশ দিয়ে কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এ মর্মে কারণ দর্শাতে আদেশ দেয়। তবে, ওই সময় মনিরুজ্জামান দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার পক্ষে সময়ের আবেদন করা হলে আদালত ৫ জুন (গতকাল) নির্ধারণ করে। এর ধারাবাহিকতায় তিনি গতকাল আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে এ শাস্তি দেয়।
হুসাইন আহমেদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাসপোর্ট একটি ট্রাভেল ডকুমেন্ট। কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে বা তদন্ত চলছে এমন কারণে পাসপোর্ট দেওয়া যাবে না, এ সংক্রান্ত কোনো আইন দেশে নেই। এমনকি এ বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্বের নির্দেশনা রয়েছে। আদালতের আদেশ ভঙ্গ করায় ওই ব্যক্তিকে দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার সাজা দিয়েছেন আদালত।’