আহমেদ বাসারের ৩টি কবিতা

একা থাকা শিখে গেছি প্রিয়

একা থাকা শিখে গেছি প্রিয়

দেবদারু বনকে বলি তোমার তলায়

একফালি ছায়া বিঁধে আছে নিঃসঙ্গ ফলায়

খল বিকেলের নীল ছায়াদের কুড়োতে দিও

 

নিজের সঙ্গে কথা বলা করেছি রপ্ত

ভিন দুপুরের গল্পগুলো পকেটে পুরে

মুখর নগর নস্যি হতে অনেক দূরে

কথা বলি তার সঙ্গে উদয়াস্ত

যে তোমারই নাম জপতো

 

একলা থাকার ষোলো কলায় দিয়েছি শান

তোমার ছবি বুকের তলায় লুকিয়ে রেখে

খোঁড়ার মতো হাঁটতে থাকি এঁকেবেঁকে

পা  বাড়ালেই অচিন সুতোয় কে যেন দেয় টান!

তোমার চোখে

 

নীল পতঙ্গ, ঝাঁপ দেব তোমার চোখে

কত সূর্য পুড়ে ছাই ওই অগ্নিকু-ে

ও চোখে তাকালে চাঁদ ডোবে সূর্যশোকে

অন্ধ রাত জেগে ওঠে ভোরের তৃণখন্ডে

 

ঠোঁটের দীঘল ভাঁজ হতে চিবুকের গাঢ় তিল

লাবণ্যের বর্ণে আঁকা এক তিলোত্তমা

মুখের মানচিত্রজুড়ে জল টলমল বিল

নিটোল চোয়াল বিশ্বকাপা শিল্পের তর্জমা

 

গালের গলিতে কত রক্তজবা গাঁথা

বিভোর বাতাসে কাঁপে নদীমাখা কেশ

তাকালে তোমার চোখে নুয়ে আসে মাথা

তুমি হাসলেই হেসে ওঠে বাংলাদেশ...

ধূলিদৃশ্য

 

ধূলি ওড়ে পৃথিবীর ডানাওলা উড়ন্ত ধূলিদৃশ্য

দেখে মনে হয় কোনো এক পড়ন্ত বেলায় গোধূলির

আলোর ভেতর ধূলির স্পর্শ শিহরণে জন্ম আমার

বাতাসও এ ক্ষেত্রে রাখতে পারে মোক্ষম ভূমিকা

খেয়ালি ধূলিবালিকার নিরুদ্দেশ গতিবিধি মুহূর্তে

বদলে দিয়ে পৃথিবীর আদিগন্ত লাস্যলীলায়

নিয়ত নিচ্ছে ঠেলে। ধূলির গায়ে জাগতিক ধূলি

লেগে অযুত কাঠামোর ভেতর রূপ পেতে পেতে

মানবীয় জামা পরে জেগে উঠি কী ভীষণ

মাতৃজরায়, আমার জন্মচিৎকারে কেঁপে ওঠে

সাততলা আকাশ, শূন্যতা ডালা মেলে অশ^ত্থের

শিকড় হওয়ার বাসনায় ইস্তফা দিয়ে তাকায় ঠারে

জন্মের জটিল প্যাঁচ খুলে খুলে আমি কেবল জগৎ

মাতার জমিনজুড়ে গড়িয়ে পড়ি, কান্নার সীমাহীন

ধকল তুলে নিরর্থক অস্তিত্বের অর্থময় ধ্বনি

ছড়িয়ে দিই বধির সময়ের ঝুলে পড়া বিশ্বকানে...