চা বিক্রেতা মফিজ উদ্দীন (৭০) ও ফজিলা খাতুন (৬৫) দম্পতি এখন বাজারের তালাবদ্ধ চা স্টলটির সামনে দাঁড়িয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন মানুষজনের দিকে। ক্লান্ত হয়ে গেলে মাঝেমধ্যে বসেন প্লাস্টিকের ভাঙা চেয়ারে। সাহায্য কামনা করেন বাজারের প্রতিবেশী ব্যবসায়ীদের কাছে। আর্থিক এবং দোকানটি খোলার জন্য।
কিন্তু প্রভাবশালীর প্রভাবের কাছে সবাই নস্যি। খেয়ে-পরে বাঁচার সাহায্য কেউ কেউ করতে পারলেও এক যুগ ধরে চা খাইয়ে আসা ওই দম্পতির চা স্টলটির তালা খোলা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, খোদ বাজার কমিটির সভাপতি-সম্পাদক তালা দিয়েছেন তাদের স্টলে।
ঘটনা গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের গোসিংগা বাজারের মাছ মহল এলাকায়। দশ দিন আগে তার দোকানে সদলবলে এসে তালা দেন বাজার কমিটির সভাপতি বোরহান উদ্দীন মোড়ল। তিনি গোসিংগা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং ওই বাজারের বড় ব্যবসায়ী। বোরহান গোসিংগা গ্রামের আলফাজ উদ্দীন মোড়লের ছেলে। তালা দেওয়ার সময় বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
গত সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, মফিজ উদ্দীনের টিনের ছাপড়া চা স্টলে তালা লাগানো। দোকানের পাশেই মফিজ ও তার স্ত্রী ফজিলা দাঁড়িয়ে। মফিজ উদ্দীন পাশের খিলপাড়া গ্রামের মৃত সুবেদ আলীর ছেলে।
এরই মধ্যে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মফিজ। থানায়ও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহ পার হলেও এখনো অসহায় দম্পতি তাদের চা স্টলটি ফিরে পাননি। রোজগার না থাকায় অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।
মফিজ উদ্দীন বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে বিকেলে দোকানদারি করার সময় বোরহান মোড়ল ও তার লোকজন এসে তালা কিনে এনে সবার সামনেই জোর করে আমাকে বের করে দিয়ে চা স্টলে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বোরহান উদ্দীন মোড়ল আওয়ামী লীগের নেতা ও অর্থবিত্তে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না।’
বাজার কমিটির সভাপতি বোরহান উদ্দীন মোড়ল মফিজের চা স্টলে তালা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘পরিস্থিতি তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার মতোই ছিল। এ সময় বাজার কমিটির সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও ছিলেন। এই দোকানের আরও দাবিদার আছে।’
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোভন রাংসা বলেন, ‘বৃদ্ধ এক দম্পতি আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে সমাধান করে দিতে। আশা করি, একটা সমাধান হবে।’