পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা হয়তো দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হেরে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তাই হলো। হার দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু হলো সাবেক চ্যাম্পিয়নদের। সেটাও আবার সুপার ওভারে।
জয়ের জন্য সুপার ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। ইফতিখার আহমেদের উইকেট হারিয়ে ১৩ রানের বেশি করতে পারেনি সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সুপার ওভারে জিতে ইতিহাস গড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
পাকিস্তানের সমর্থকরা তখন হতবিহবল, যেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না কী হয়ে গেল। তাদের ক্রিকেটারদের চোখে-মুখে তখন রাজ্যের আঁধার। সেই আঁধারকে সঙ্গী করে সংবাদ সম্মেলনে এলেন বাবর আজম। এমন কিছু হতে পারে, ম্যাচের আগে তার কল্পনাতেও ছিল না তা। পাকিস্তান অধিনায়ক এক পর্যায়ে স্বীকার করে নিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুটা হালকাভাবেই নিয়েছিলেন তারা।
ম্যাচ হেরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, ‘প্রথম ৬ ওভারে আমরা সেভাবে মানিয়ে নিতে পারিনি। একটার পর একটা উইকেট যাওয়াতে আমরা পিছিয়ে পড়ছিলাম। ব্যাটার হিসেবে জুটি গড়তে আপনাকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা বোলিংয়ে প্রথম ৬ ওভার খারাপ করেছি। আমাদের স্পিনাররাও উইকেট নিতে পারেনি।’
ম্যাচের পর হতাশা লুকালেন না বাবর আজম, 'অবশ্যই হতাশ আমি। তিন বিভাগেই আমরা ভালো ছিলাম না। বোলিংয়ে আমরা শুরুতে উইকেট নিতে পারিনি। মাঝের ওভারগুলোয় স্পিনাররাও উইকেট না পাওয়ায় আমরা চাপে পড়ে যাই। ১০ ওভারের পর আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তবে তারা যেভাবে শেষ করেছে এবং সুপার ওভারে যেভাবে খেলেছে, কৃতিত্ব দিতেই হবে তাদেরকে।'
বাবর জানালেন, সুপার ওভারে আমিরকে বিশেষ কোনো পরামর্শ তিনি দেননি। ‘বাই’ রানগুলোর জন্য প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের প্রত্যুৎপন্নমতিত্বকে কৃতিত্ব দিলেন তিনি, 'সে (আমির) তো অভিজ্ঞ বোলার। কীভাবে বল করতে হয়, তার জানা আছে। আমরা চেষ্টা করেছি, ফিল্ডিং সাজানো অনুযায়ী বল করতে। তবে আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটাররা আরও স্মার্ট। কিপারের কাছে বল রেখেই তারা রান নিয়েছে। এটা সুপার ওভারে তাদের জন্য বাড়তি সহায়তা করেছে।'
বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইংল্যান্ডে চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে এসেছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপে তাই আনুষ্ঠানিক গা গরমের ম্যাচ তারা খেলেনি। প্রস্তুতির কোনো ঘাটতিও বাবর দেখছেন না। পাকিস্তান অধিনায়ক বললেন মানসিক ঘাটতির কথা, প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট গুরুত্ব তারা দেননি।
বাবর বলেন, 'যে কোনো টুর্নামেন্টের জন্যই প্রস্তুতি তো সবসময়ই সর্বোচ্চ থাকে। এখানে মানসিকতার ব্যাপার বলতে পারেন। এই ধরনের দল যখন সামনে থাকে, দল হিসেবে কিছুটা রিল্যাক্সড হতে পারেন আপনি, সবকিছু কিছুটা সহজভাবে নিতে পারেন। যে কোনো দলের বিপক্ষেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে না পারলে তারা ম্যাচ বের করে নেবে, যেমন দলই হোক। আমার মতে, বাস্তবায়ন ঠিকঠাক করতে পারিনি আমরা। প্রস্তুতি আমাদের ভালো ছিল। কিন্তু দল হিসেবে পরিকল্পনার প্রয়োগ করতে পারিনি।'
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা করতে ভুলেননি বাবর, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে কৃতিত্ব দিতেই হয়। তারা তিনটি বিভাগেই আমাদের পরাস্ত করেছে। পিচে শুরুতে কিছুটা সুইং ছিল, তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এটি আপনাকে মানিয়ে নিতে হবে।’