সালাউদ্দিনকে 'না জানিয়েই' বাংলাদেশে খেলতে চান হামজা!

ডেনমার্কে জন্ম নেওয়া জামাল ভুইয়া যখন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে চড়ান তার পর থেকেই পালাবদলের ঢেউ আসে দেশের ফুটবলে। এর পর দেশের ফুটবলে এসে যোগ দেন তারেক কাজী। দুর্দিন চললেও বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকরা অনেক বেশি আবেগী এ ব্যাপারে। তারা যখন জানতে পারেন হামজা চৌধুরী নামে বাংলার এক সন্তান মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন ইংল্যান্ডের ফুটবল তখন থেকেই দেখতে থাকেন হামজার গায়ে লাল-সবুজ জার্সি দেখার স্বপ্ন। 

বেশ কিছু দিন ধরেই জানা যাচ্ছে যে বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য আগ্রহী হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের ভিসার জন্য লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে দৌড়ঝাপ করছেন। এ নিয়ে কথাও বলেছেন জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ, কাজ করছেন বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারও।

অথচ বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ভাবখানা এমন যে, তাকে কেনো বলেনি হামজা বাংলাদেশের হয়ে খেলার আগ্রহের কথা, 'হামজা এখন পর্যন্ত আমাকে বলেনি সে (বাংলাদেশের হয়ে) খেলতে চায়। এটা শুধু গণমাধ্যমে শোনা কথা। তাকে এখানে আসতে বলেন এবং বলতে বলেন সে খেলতে চায়। কী করতে হবে আমরা করে দিবো ৭ দিনের মধ্যে। হামজা আমাদের কোন চিঠিও পাঠায়নি যে সে খেলতে চায়। তার ক্লাবও তাকে ছাড়পত্র দেয়নি।'

অথচ গত মাসখানেক সময় ধরেই বাংলাদেশি পাসপোর্টের জন্য ইংল্যান্ডের বাংলাদেশি দূতাবাসে দৌড়ঝাঁপ করছেন হামজা। প্রথম দফায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাগজ না নিয়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছিল সাময়িক সঙ্কটের। সে সময় বিষয়টি জানার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইংল্যান্ডের দূতাবাসে যোগাযোগ করেন বাফুফে সাধারণ সম্পাদক। 

এমনকি গতকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন সময়েও তপু বর্মনের সঙ্গে মজা করার সময় হ্যারি স্লটার টিপ্পনি মেরেছেন এই বলে, ‘হামজাকে বলে দেবো যেন বাংলাদেশের হয়ে না খেলে।’ হামজার লেস্টার সিটি সতীর্থ সটারও জানেন বিষয়টি শুধু জানেন না বাফুফে সভাপতি। এগুলো হয়তো বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আসা নয় বরং ঘুরতে আসার জন্য। অন্তত বাফুফে সভাপতির বক্তব্য সেদিকেই ইঙ্গিত করে। 

কাজী সালাউদ্দিন বলেন, 'হামজা যদি খেলতে আসে তাকে আমরা স্বাগত জানাবো। যা চায় তাই দিবো। তবে সমস্যা হচ্ছে, হামজা কখনও এই কথা বলেনি, আপনারা বলতেছেন সে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চায়।'