রূপগঞ্জে রফিক বাহিনীর গুলিতে শিক্ষার্থী নিহত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রফিক বাহিনীর গুলিতে দ্বীন ইসলাম নামের সদ্য এসএসসি পাস করা এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ছররা গুলিতে ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অন্তত ২২ জন। এ সময় সন্ত্রাসীরা আটটি বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দুই গ্রুপের এই সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল।

রূপগঞ্জে রফিক বাহিনীর গুলিতে শিক্ষার্থী নিহতনিহত দ্বীন ইসলাম কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া গ্রামের মিল্লাত সাউদের ছেলে। সে চলতি বছর এসএসসি পাস করেছে। স্থানীয় লোকজনের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকের ছোট ভাই মিজানুর রহমান মিজান দ্বীন ইসলামকে লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালান। তাঁর ছোড়া গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে দ্বীন ইসলাম। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছে জাসমিন বেগম, ওয়াসিম মিয়া, সাখাতুল্লা, আনু মিয়া, নুরে আলম ও জাকির হোসেন। এ সময় ইভা (১১) নামের এক শিশুকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এদের প্রত্যেককে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নাওড়া এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গতকাল বিকেল ৪টায় কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক, তাঁর ভাই মিজানুর রহমান ও শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১০০ থেকে ১৫০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী এলাকাবাসীর ওপর হামলা চালায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত রফিক বাহিনীর এই তাণ্ডব চলে। এ সময় এলাকাবাসী প্রতিরোধ করতে এগিয়ে গেলে রফিক বাহিনী গুলি ছোড়ে।

এলাকাবাসী জানায়, রফিক এবং তাঁর বাহিনী চলতি বছরের গত ছয় মাসে ১১ বার সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়। নাওড়া এলাকায় এক আতঙ্কের নাম রফিক। তাঁর রয়েছে ৩৫০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী। এই বাহিনী চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, জমি জবরদখল থেকে শুরু করে হেন কোনো অপকর্ম নেই যা করে না। এই বাহিনীর ভয়ে তটস্থ থাকে এলাকার সাধারণ মানুষ। জমি জবরদখলের বিষয়টি দেখভাল করেন মিজান। আর মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, ডাকাতির দেখভাল করেন শফিক। রফিক বাহিনীর কাছে শটগান, পিস্তল, দা, টেঁটা, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রের ভাণ্ডার রয়েছে। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাওড়া এলাকার একজন বৃদ্ধ বলেন, বাবা, রফিকের লেইগ্যা আমাগো এলাকায় শান্তি নাই। হের খালি জমি দহল। কত্ত মাইনসের জমি দহল করছে, এইডার কোনো হিসাব নাই। নাওড়ায় গেঞ্জামটা করে রফিক আর তার ভাইয়েরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নারী বলেন, রফিকের নাম মুখ আনতেও ডর করে। হেরা কতায় কতায় গুল্লি করে। মানুষ মারে। এইভাবে কেমনে থাকুম আমরা? সরকার কি রফিকের বিচার করব না? আল্লায় কি হের একটা বিহিত করব না? দুই দিন পরে পরে হেরা মাইনসেরে মাইর-ধইর করে।

নিহত দ্বীন ইসলামের চাচা দেলোয়ার হোসেন বলেন, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জমি দখলে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওপর অত্যাচার করে আসছে। সে ও তার বাহিনী নাওড়া গ্রামবাসীর ওপর বহুবার হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলেও রফিকের নেতৃত্বে দেড় শতাধিক সন্ত্রাসী আমাদের গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়। এ সময় রফিকের ছোট ভাই মিজানুর রহমান আমার ভাতিজাকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে গুলি করে। দ্বীন ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে।

নিহতের প্রতিবেশী আমির হামজা বলেন, রফিক বাহিনী আমাদের এলাকাছাড়া করতে কয়েক দিন পর পর হামলা করে। আজ (গতকাল) বিকেলেও আবার হামলা করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা গুলি চালায়। এতে অনেকে আহত হয়। রফিকের ছোট ভাই মিজানের গুলিতে দ্বীন ইসলাম মারা যায়।

রূপগঞ্জ থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা নিহতের ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আরো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।