লিবিয়া উপকূল থেকে ১১ অভিবাসীর মরদেহ এবং ১৬০ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করেছে দাতব্য গোষ্ঠী ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)। এ সময় ইউরোপীয় দেশগুলির অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছে সংস্থাটি।
শনিবার (৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে এমএসএফ সংস্থাটি জানায়, জার্মান বেসরকারী সংস্থা সি-ওয়াচের সহায়তায় নয় ঘন্টারও বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান অভিযানের পরে তাদের উদ্ধারকারী জাহাজ জিও বেরেন্টস ১১ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুটি অভিযানে ১৪৬ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে। পরে আরেকটি পৃথক নৌকায় আরও ২০ জনকে পায় তারা।
অভিবাসীদের মৃত্যুর ঘটনায় দাতব্য গোষ্ঠীটি উত্তর আফ্রিকার দেশ এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা জানায়।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে এমএসএফ বলেছে, ‘এই ট্র্যাজেডির সুনির্দিষ্ট কারণ আমরা জানি না। তবে আমরা এটি জানি, মানুষ নিরাপত্তার জন্য মরিয়া হয়ে মারা যাচ্ছে। এর অবসান হওয়া উচিত।’
জার্মান বেসরকারী সংস্থা সি ওয়াচ গ্রুপের বিমান ভূমধ্যসাগরে মরদেহগুলো দেখতে পেয়েছিল। তারা জানায়, ‘মরদেহগুলো অজানা নৌকাডুবির শিকার হয়েছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়।’ তবে সংস্থাটির দাবি, মরদেহগুলো উদ্ধারের জন্য তারা লিবিয়ার কোস্টগার্ডের সাথে যোগাযোগ চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পায়নি।
সংস্থাটি এক বিবৃতি বলেছে, ‘ভূমধ্যসাগরে এটা ঘটে থাকে, এমনকি কেউ না দেখলেও।’
যুদ্ধ, দারিদ্র্য এবং নিপীড়ন থেকে বাঁচতে আফ্রিকার দেশগুলতে থেকে হাজার হাজার অভিবাসী ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টার সময় লিবিয়া উপকূল ব্যবহার করে থাকে। ইতালীয় দ্বীপ ল্যাম্পেডুসাতে গন্তব্যস্থল হিসাবে এসব অভিবাসীরা ভূমধ্যসাগর জুড়ে বিপজ্জনক যাত্রা করে থাকে।
২০১৪ সাল থেকে মধ্য ভূমধ্যসাগরে ২০ হাজারটিরও বেশি মৃত্যু এবং নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ।