ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বলেছিলেন আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণ তার কাছে হুমকি মনে হচ্ছে। সতর্ক থেকেও কাজ হলো না। বল হাতে নিউজিল্যান্ডের টপ-অর্ডার ধসিয়ে দিলেন ফজলহক ফারুকি। স্পিনে ভোগালেন রশিদ খান। তাতে আফগানিস্তান পেল স্মরণীয় এক জয়। গায়ানার প্রভিডেন্সে শনিবার আফগানিস্তান টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে তোলে ১৫৯ রান। নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ৭৫ রানে অলআউট করে তারা। আফগানরা ম্যাচটা জিতেছে ৮৪ রানে।
বিশ্বকাপ তো বটেই, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের প্রথম জয় এটি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের হিসাবে এটি নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ ব্যবধানে হার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর।
ফারুকি ও রশিদ নেন ৪টি করে উইকেট। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের প্রথম বলেই ফিন অ্যালেনকে ফেরান ফারুকি। এরপর কনওয়ে (৮) ও ড্যারেল মিচেলকে (৫) আউট করেন। দলীয় ৩৩ রানে উইলিয়ামসনকে রশিদ ফেরালে চাপে পড়ে কিউইরা। সেখান থেকে গ্লেন ফিলিপসের ১৮ ও ম্যাট হেনরির ১২ কেবল হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে। ফারুকি ও রশিদ দুজনই ১৭ রান দিয়ে নেন ৪টি করে উইকেট। বিশ্বকাপে কোনো অধিনায়কের সেরা বোলিং রশিদেরটি। ২০০৭ আসরে ভারতের বিপক্ষে ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। ২০২১ সালে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ওমানের জিশান মাকসুদও ২০ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট।
তার আগে আফগানিস্তানকে জয়ের ভিতটা গড়ে দেন দুই ওপেনার। উদ্বোধনী জুটিতে ১০৩ রান যোগ করেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। আগের ম্যাচে তাদের জুটিতে আসে ১৫২ রান। জাদরান ৪১ বলে ৪৪ করে ফিরলে জুটি ভাঙে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো দলের উদ্বোধনী জুটিতে টানা দুই ম্যাচে শতরানের জুটি হলো এই প্রথম। রেকর্ড জুটি হলেও প্রথম ১০ ওভারে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল মাত্র ৫৫ রান। পানি পানের বিরতির পর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে তারা। ৪০ বলে টানা দ্বিতীয় ফিফটি পূর্ণ করেন গুরবাজ। ১৫তম ওভারে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন হেনরি। ওমরজাই করেন ১৩ বলে ২২ রান। গুরবাজ ৫টি করে ছক্কা ও চারে ৫৬ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন।
ম্যাচ শেষে গুরবাজ বলেন, ‘এই জয়টার জন্য তিন বছর অপেক্ষা করেছি। অবশেষে নিউজিল্যান্ডকে হারালাম আমরা। প্রথম ইনিংসে এই পিচে ব্যাট করা সহজ ছিল না। তবে পানি পানের বিরতির সময় দলের পক্ষ থেকে একটা বার্তা পাঠানো হয়। আমার শুরুটা ভালো হয়নি। ইব্রাহিম বলছিলেন মাথা ঠান্ডা রাখতে। ক্রিকেটীয় শট খেলতে। মনে হয়েছিল ১৩০-১৪০ রান তুলতে পারলেই জেতা সম্ভব। সেটাই হয়েছে।’