বাংলাদেশের হারে আইসিসিকে নিয়ম বদলাতে বললেন নাসের-তামিম-সঞ্জয়

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রান তাড়ার ১৭তম ওভারে ওটনিয়েল বার্টম্যানের দ্বিতীয় বল প্যাডে আঘাত করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। আম্পায়ারও সাড়া দেন আবেদনে। মাহমুদউল্লাহ অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। স্টাম্পের লাইন মিস করে বলটি। তবে প্যাডে লাগার পর সবকিছু মিস করে বাউন্ডারি লাইন পেরিয়ে গিয়েছিল বল। আম্পায়ার যদি আউট না দিতেন তাহলে লেগবাই হিসেবে ৪ রান পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের।

আইসিসির নিয়ম অবশ্য বলছে, আম্পায়ার আউটের জন্য আঙুল তুললে বল ডেড হয়ে যায়। তখন যেমন বল সীমানা পেরিয়ে গেলেও বাউন্ডারি হবে না, তেমনি রান আউটও হবে না কেউ। আর এই আইন নিয়েই আপত্তি ইংলিশ সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন, বাংলাদেশি সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের।

স্কাই স্পোর্টসের ধারাভাষ্যের কাজে থাকা নাসের হুসেইন বলছিলেন, ‘এই আইনটার সংস্কার হওয়া উচিত। বল বাউন্ডারি লাইন পেরিয়ে গেল আর আপনি ৪ রান দিবেন না। এটা কেন?’ একই সুুরে কথা বলেছেন তামিম ইকবাল ও সঞ্জয় মাঞ্চরেকার। ক্রিকইনফোর ‘টাইম আউট’ অনুষ্ঠানে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এ দুজন।

সঞ্জয় দুর্ভাগাই বললেন বাংলাদেশকে। সে সঙ্গে ফুটবলের ভিএআরের মত ক্রিকেট আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের জন্য দিলেন অপেক্ষা করার পরামর্শ, ‘ফুটবলে হয় কি, কেউ যদি অফসাইডে থাকে আর বক্সে খেলা চলমান থাকে, তখন অপেক্ষা করেন রেফারি। বল গোল না হলে আর খেলা বন্ধ করা হয় না। তাহলে ক্রিকেটে কেন তাড়াহুড়ো করতে হবে আপনাকে। আঙুল তুললে কেন সব বন্ধ হয়ে যাবে। অপেক্ষা করুন। বল যদি বাউন্ডারিতে যায় তাহলে বাউন্ডারি দিন। এমন আইন থাকলে বাংলাদেশ আজ ৪ রানে হারত না।’’

তামিম ইকবাল সেই অনুষ্ঠানে বললেন একই কথা, ‘আমি ধারাভাষ্য শুনছিলাম। সেখানে নাসের হুসেইনসহ অন্য ধারাভাষ্যকাররাও একই কথা বলেছেন। আমার আইসিসির কাছে পরামর্শ হচ্ছে যদি দেখা যায় বল ব্যাটে লেগে বা প্যাডে লাগার পর উইকেটরক্ষক বা কোনও ফিল্ডারের আটকানোর মত অবস্থা না থাকে, তাহলে রান দিন। আর অপেক্ষা করুন আউট দেওয়ার আগে। এত দ্রুত করার কি আছে?’

এরপর সঞ্জয় মাঞ্জরেকার যোগ করেন, ‘আমাদের এই আলোচনার ভিডিও আইসিসির কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক। ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে সুপার ওভার নিয়ে সমালোচনার পর আইন বদলেছে আইসিসি। তাহলে এই আইন কেন বদলাবে না। আজ বাংলাদেশ হারল ভুল এই আইনের জন্য। অন্যদিন একই কারণে দুর্ভাগা হতে পারে যে কোনো দল।’