পাঁকে পড়া পাকিস্তানকে হারানোর 'সাধ' জেগেছে কানাডার 

২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্ব সরাসরি খেলা পাকিস্তান ভারত ও জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে বসেছিল। তবে সেই বিপর্যন্ত অবস্থা থেকে ঘুরে দাড়িয়ে নেদারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশকে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে উঠেছিল সেমিফাইনালে। খেলেছিল ফাইনালেও। 

এবার এর চেয়েও বাজে অবস্থায় পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কাছে হেরে প্রথম পর্ব থেকেই বাদ পড়ার শঙ্কায় তারা। যেটুকু সম্ভাবনা অবশিষ্ট আছে, সেজন্য শেষ দুই ম্যাচে কানাডা ও আয়ারল্যান্ডকে হারাতেই হবে বাবরদের। তারপরও অনেক যদি-কিন্তু ওপর নির্ভর করতে হবে পাকিস্তানকে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত, দুই দলই নিজেদের শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জয় পেলেই কোনো জটিল হিসাব-নিকাশ ছাড়াই বাদ পড়ে যাবে ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা। 

এই কঠিন ও জটিল সমীকরণ মেলানোর শুরুতেই ভঙ্গুর পাকিস্তান আজ (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়) কানাডার বিপক্ষে খেলতে নামছে নিউ ইয়র্কের দুর্বোধ্য নাসাউ স্টেডিয়ামে। 

সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানের অবস্থান ছয়ে, কানাডা আছে ২৩-এ। র‌্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্যের চেয়ে যে ক্রিকেটীয় সামর্থ্যের বিচারেই পাকিস্তান-কানাডার পার্থক্য অনেক বেশি সেটি না বললেও চলে। পাকিস্তানের বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে কানাডা কতটা কী করতে পারবে, প্রশ্ন সেটিই।
ম্যাচটা কানাডার জন্যও মহাগুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করলেও পরের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারানো দলটির অধিনায়ক সাদ বিন জাফর পাকিস্তানকেও হারাতে পারার না কারণ দেখছেন না। 

'সবাই ইতিবাচক মানসিকতায় আছে। আমাদের সবশেষ ম্যাচটি খুবই ভালো হয়েছে। এটা আমাদের মধ্যে এই বিশ্বাস তৈরি করেছে যে, আমরা যদি ওই দিনটিতে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারাতে পার।'

সেরা চেহারায় না থাকা পাকিস্তানে আরও চেপে ধরে অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাতে চান সাদ বিন জাফর, 'আমি জানি, আমরা পাকিস্তানের মতো শীর্ষমানের ও অনেক অভিজ্ঞ একটি দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, তারা যে ঘরানার ক্রিকেটের জন্য পরিচিত সেটা খেলতে পারছে না। প্রথম দুটি ম্যাচ হেরে তারা চাপে আছে। তাই, যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং ম্যাচের শুরুতে তাদেরকে চেপে ধরতে পারি, তাহলে যেকোনো কিছু সম্ভব।'

অবশ্য এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যে তিনবার দেখা হয়েছে দুই দলের, সেই তিনবারই বড় ব্যবধানে জিতেছে পাকিস্তান। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে দেখা একবারই, ২০০৮ সালে কানাডায় একটি চার জাতি টুর্নামেন্টে। কিং সিটির সেই ম্যাচে শোয়েব মালিকের নেতৃত্বে ১৩৭ রান করে পাকিস্তান জয় পায় ৩৫ রানে। সেই ম্যাচে খেলা ২২ জনের কেউই অবশ্য নেই আজকের ম্যাচে।