টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জীবিত ৭০ বছর বয়সী এক বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা অন্য জনের নামে প্রতিস্থাপন করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা বাংড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আউলটিয়া গ্রামে।
মৃত্যুসনদ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৬ জুন বাংড়া ইউনিয়নের আউলটিয়া গ্রামের মোছা. জয়তন বেগমের স্বামী মৃত. শামছ উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করে মৃত্যু সনদ দেন বাংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম।
অভিযোগকারী নাতনী কণিকা আক্তার বলেন, আমার দাদির নামে বিধবা ভাতার কার্ড ছিল। দীর্ঘদিন তিনি সরকারি বিধবা ভাতা পেতেন। কিন্তু ৬ মাস যাবৎ দাদির নামে মোবাইল ব্যাংকির মাধ্যমে টাকা না আসায় আমরা উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি মোছা. জয়তন বেগমকে মৃত্যু সনদ দেখিয়ে ভাতাটা আউলটিয়া গ্রামের মমতা বেগম স্বামী মৃত ফরমান আলির স্ত্রীকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোছা. জয়তন বেগম প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বাংড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে জানতে চাইলে বলেন, জয়তন বেগম আমার মামাতো ভাইয়ের স্ত্রী। এটা আমাদের ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন এবং তার সম্পূর্ণ ভাতার টাকা পরিশোধ ও প্রতিস্থাপন করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
বাংড়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য গ্রামপুলিশ ও ইউপি সদস্যরা দিয়ে থাকেন। কিন্তু স্থানীয় ইউপি সদস্য একজন জীবিত মানুষকে মৃত্যু দেখিয়ে মেম্বার সহকারী কাম কম্পিউটার বরাবর আবেদন করেন। সহকারী কাম কম্পিউটার অনলাইন করে আমার নিকট আবেদন দাখিল করে পর আমি মৃত সনদ রেজিস্ট্রারে নাম লিপিবদ্ধ দেখে আমি মৃত্যু সনদ ইস্যু করেছি। আমার অজান্তে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান এত বড় তথ্য গোপন করায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. আব্দুল হান্নান সরকার বলেন, আমার কাছে ভুক্তভোগী নারী আসছিলেন। আমি বিষয়টি জানার পর ইউএনও স্যার বরাবর অভিযোগ দিতে বলেছি।
জীবিত জয়তনের পুনরায় বিধবা ভাতা চালু করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু মৃত্যসনদ দিয়ে আমাদের রেজিস্ট্রারে অন্য জনের নামে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে তাই পুনরায় চালু করার সুযোগ নাই। আবার নতুন করে বিধবা ভাতা আগামীতে এলে করে দেওয়ার চেষ্টা করব।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদাত হুসেইন বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।