টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নে যমুনা সেতু পূর্ব থানা পাড় বালুঘাটের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে বেলটিয়া গ্রামে এক যুবকের বাড়ি লক্ষ্য করে শর্টগান থেকে চার রাউন্ড গুলি ছোড়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে বেলটিয়া গ্রামের সোলায়মান আকন্দের (২৬) বাড়ি লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা শর্টগান থেকে চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এর মধ্যে একটি গুলির ছররা ঘরের জানালা ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের আগে গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের তৎকালীন আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান আব্দুল হাই আকন্দ এবং আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার যমুনা সেতু পূর্ব থানা পাড়ের দুটি বালুঘাট পরিচালনা করতেন। সরকার পরিবর্তনের পর আব্দুল হাই আকন্দের নিয়ন্ত্রণাধীন ঘাটটি তার চাচাতো ভাই সোলায়মান আকন্দ ও কবির আকন্দ পরিচালনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে আব্দুল হাই আকন্দ, হযরত আলী তালুকদার, আলম তালুকদার, রুবেল প্রামাণিক ও পলাশ পুনরায় ঘাটটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্যোগ নিলে সোলায়মান আকন্দের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
তাদের মতে, পলাশ ও সোলায়মান আকন্দের মধ্যে বালুঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বের জের ধরেই শনিবার ভোরে ওই গুলির ঘটনাটি ঘটেছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, বালুঘাটের বিরোধ নিরসনে সম্প্রতি টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিনের উদ্যোগে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার উদ্যোগে একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও অভিযোগ রয়েছে, সোলায়মান আকন্দ ওই বৈঠকগুলোতে অংশ নেননি। ফলে বিরোধের সমাধান হয়নি। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, পলাশ ও সোলায়মান আকন্দের মধ্যে বালুঘাট নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। গুলির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।