সারা দেশে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার নিয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা এসেছে উচ্চ আদালত থেকে। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আজ বুধবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মাসুদ হোসাইন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাইফুল্লাহ মামুন, এ এম জামিউল হক ফয়সাল ও আব্দুল্লাহ আল হাদী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০২৫ এর মধ্যে বিদ্যুতের সকল গ্রাহককে সকল গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার ঘোষণা থাকলেও বিদ্যুৎ সেক্টরে নানা সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত চার্জ, গোপন চার্জ এবং স্বচ্ছতার অভাবে ভোক্তারা নানা আর্থিক কষ্টসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। আমরা বিষয়টি হাইকোর্টে শুনানিতে তুলে ধরেছি। আদালত তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে, কাদের মাধ্যমে তদন্ত ও প্রতিবেদন দিতে হবে সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আদেশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তুষার কান্তি রায় বলেন, ‘তদন্ত করে একমাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। কারা তদন্ত করবে তা পূর্ণাঙ্গ আদেশ পেলে জানা যাবে।’
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তথ্য মতে, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের বিলিং প্র্যাকটিস পর্যালোচনা ও নিরীক্ষা, স্বচ্ছতা, অতিরিক্ত চার্জের রিফান্ড, জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নীতি সংস্কারের উল্লেখ করে গত ৬ জুন হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করা হয়। এতে বিদ্যুৎ সচিব, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, বাংলাদেশ রুরাল ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, ডেসকোসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
এর আগে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে গত ২১ মে আইনি নোটিশ পাঠানো হলে এর জবাব না পাওয়ায় উচ্চ আদালতের দারস্থ হন রিটকারী তিন আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল, কামরুল হাসান রিগ্যান ও জাকির হায়দার।